‘তিলোত্তমা কিন্তু এখনও বিচার পায়নি…’, চা খাওয়ানোর মাঝেই মনে করাচ্ছেন বিচারের কথা, অতি সাধারণভাবে সামাজিক কর্তব্য পালন করে মন কাড়লেন চা বিক্রেতা!

আর জি কর হাসপাতালে (R G Kar Hospital) তরুনী চিকিৎসককে ধ’র্ষণ এবং খু’নের মামলায় উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা বাংলা। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’এবং ‘জাস্টিস ফর আর জি কর’ (justice for R G Kar) স্লোগানে এক হয়ে গেছে রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম। সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন মোমবাতি কিংবা মশাল হাতে। হয়েছে রাত দখল। বর্তমানে জুনিয়র চিকিৎসকদের বিক্ষোভ অবস্থান নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে কলকাতা। বিচারের প্রতিবাদ সময়ের সাথে হয়ে উঠছে আরও তীক্ষ্ণ এবং জোরালো।

আসলে এই প্রতিবাদ আন্দোলন ছুঁয়ে গেছে বাংলার আনাচে-কানাচে থাকা সকল মানুষকেই। তাই রাজ্যের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ নিজের সামর্থ্য মতো যেমন করে পারছেন প্রতিবাদ করছেন। বিচার চাইছেন। এই ছবিই উঠে আসল হুগলীর বলাগড়ের এক ছোট্ট চায়ের দোকান থেকে।

বলাগরের জিরাটের বাসিন্দা জয় ধর। পেশায় সে একজন চা বিক্রেতা। অসম লিঙ্ক রোডের ধারে বারুইপাড়ায় রয়েছে তা চায়ের দোকান। নাম রেখেছেন জয়দার চায়ের দোকান। দোকানের ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে দোকানে বড় বড় করে লিখে রেখেছেন, “তিলোত্তমা বিচার পাননি কতদিন হল”? তিনি তার ক্রেতাদের মনে করিয়ে দিতে চাইছেন যে একমাস অতিক্রান্ত হয়ে গেল এখনও বিচার আসেনি এই ভয়াবহ ঘটনার।

অসম লিঙ্ক রোডের গাড়ির যাত্রীরা চা খেতে আসেন জয় বাবুর দোকানে। সেই যাত্রীদের উদ্দেশ্যেই তার দোকানের পাশে দেওয়ালে ঝুলিয়ে দিয়েছেন একটি বোর্ড। তাতে নীল রং দিয়ে লেখা আছে, “চা খেতে খেতে ভুলে যাবেন না তিলোত্তমার বিচার পায়নি”। সেই ছবি সমাজ মাধ্যমে আসতেই রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেছে। জয়বাবুর এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন তার দোকানের ক্রেতা থেকে নেটিজেনরাও।

সেই চা বিক্রেতা জয়বাবুর বলেন, “এখনও আর জি করের ধর্ষ’ণ ও খু’নের বিচার হয়নি। চায়ের দোকান সামলে সেভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে পারছি না। তাই এই অভিনব ভাবে প্রতিবাদ করছি। যারা প্রতিবাদ করছেন তাদের পাশে আছি। তাঁদের সাহস জোগাচ্ছি। চলার পথে মানুষ যাতে ভুলতে না যায়। ধর্ষ’ণের বিরুদ্ধে যেন এক কঠোর আইন তৈরি হয়। প্রতিটা বাড়ির মহিলারা যেন সুরক্ষিতভাবে রাস্তায় বেরোতে পারে। জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনকে সমর্থন করি”।

Debdut Bhattacharjee

আরও পড়ুন

RELATED Articles