প্রয়াগরাজে চলমান মহাকুম্ভ মেলা ইতিমধ্যে একাধিক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণে শিরোনামে এসেছে। গত ২৯ জানুয়ারি মৌনী অমাবস্যার পুণ্যস্নানের সময় সঙ্গম তটে পদপিষ্ট হয়ে কমপক্ষে ৩০ জন পুণ্যার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৬০ জন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে ব্যারিকেড ভেঙে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া, মেলা চত্বরের বিভিন্ন সেক্টরে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। ১৯ জানুয়ারি সেক্টর ১৯-এ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রায় ২৫টি তাঁবু পুড়ে যায়, এবং ৭ ফেব্রুয়ারি সেক্টর ১৮-এ ইসকন ক্যাম্পে আগুন লেগে আশেপাশের এক ডজনেরও বেশি তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এইসব ঘটনায় পুণ্যার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
আজ, বুধবার, মহাশিবরাত্রি এবং ৪৫ দিনব্যাপী মহাকুম্ভ মেলার সমাপনী দিন। এই উপলক্ষে ত্রিবেণী সঙ্গমে অমৃতস্নানের জন্য লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ভিড় জমিয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ২টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে প্রায় ৪১.১১ লক্ষ পুণ্যার্থী স্নান করেছেন, এবং আজ সারা দিনে এই সংখ্যা এক কোটিরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মহাশিবরাত্রি ও মহাকুম্ভের সমাপনী উপলক্ষে পুণ্যার্থীদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
প্রশাসন পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন যাতে পুণ্যার্থীরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হন। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে, এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি পুণ্যার্থীদের মঙ্গল কামনা করে বলেছেন, “ত্রিভুবনপতি ভগবান শিব এবং পবিত্র নদী মা গঙ্গা সকলের মঙ্গল করুন।”
আরও পড়ুনঃ একেই বলে আসল ন্যায়বিচার! পরপর ধর্ষক খুন, আবার সক্রিয় ‘হারকিউলিস’!
মহাশিবরাত্রি ও মহাকুম্ভের সমাপনী উপলক্ষে সঙ্গমে পুণ্যস্নান করতে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, এবং পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপগুলি পুণ্যার্থীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
মহাকুম্ভ মেলার সমাপনী দিনে পুণ্যার্থীদের এই বিপুল সমাগম প্রমাণ করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি মানুষের গভীর বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা। প্রশাসনের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পুণ্যার্থীদের সহযোগিতার মাধ্যমে এই মহোৎসব সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়।






