President Droupadi Murmu Bengal Tour:রাষ্ট্রপতি সফরেই প্রোটোকল বিতর্ক, প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষোভ! দুই শীর্ষ আধিকারিককে ডেপুটেশনে চাইলো কেন্দ্র, বাড়ছে রাজ্য-কেন্দ্র টানাপোড়েন!

উত্তরবঙ্গ সফরে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি সাধারণত প্রশাসনিক ও সামাজিক গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু এবার সেই সফরই নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন থেকে শুরু করে প্রোটোকল মানা হয়েছে কি না—এই সব প্রশ্ন ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা বেড়েছে, আর সেই আবহেই সামনে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

রাষ্ট্রপতির সফরের সময় দায়িত্বে থাকা দুই শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিককে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর এবং দার্জিলিঙের জেলাশাসক মণীশ মিশ্র—এই দুই আধিকারিকের নামই কেন্দ্রের তরফে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের মতামতও চাওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। কারণ রাষ্ট্রপতির সফর সংক্রান্ত যাবতীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব মূলত এই দুই আধিকারিকের উপরই ছিল।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবারের একটি অনুষ্ঠানে। শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠিত হয় নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলন, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। যদিও সাঁওতাল সমাজের দাবি ছিল, এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর সন্তোষিণী বিদ্যাচক্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। অভিযোগ ওঠে, প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানস্থল বদলে বাগডোগরায় নিয়ে আসা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, দুই স্থানের দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েই বিষয়টি নিয়ে নিজের অসন্তোষের ইঙ্গিত দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি বলেন, এত বড় মাঠ থাকা সত্ত্বেও এখানে আগে অনুষ্ঠান করা হলে ভালো হত। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় এবং প্রোটোকল সংক্রান্ত প্রশ্নও উঠে যায়।

আরও পড়ুনঃ লখনউতে গাইতে গাইতে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন, এবার কলকাতার বহু প্রতীক্ষিত কনসার্ট বাতিল করলেন সুনিধি চৌহান! কী কারণে হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত? কেন এখানে আসতে চান না গায়িকা?

এমন ঘটনা এই প্রথম নয় বলেই মনে করিয়ে দিচ্ছে রাজনৈতিক মহল। ২০২০ সালে বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনার পরও কেন্দ্র একইভাবে কয়েকজন রাজ্য পুলিশ আধিকারিককে ডেপুটেশনে চেয়েছিল। তবে সেই সময় রাজ্য সরকার কাউকেই ছাড়েনি। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জল্পনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে তৃণমূলের কয়েকজন সাংসদের আবেদনও নাকচ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যা বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles