এসএসকেএম-মদন বিতর্ক এখনও পুরোপুরি মেটেনি। এসএসকেএমে খারাপ পরিষেবা ও অব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। এই নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকযুদ্ধেও জড়ান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বাক্যবাণে বেঁধেন ‘কালারফুল’ বিধায়ক। এবার মদনের পর বেসুরো বরানগরের তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায়। বিতর্কিত মন্তব্য করে চর্চায় জড়ালেন তিনি।
সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। সেই কারণে নানান জায়গায় সভা করছে শাসক দল। এমনই নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভায় যোগ দিয়েছিলেন তাপস রায়। সেখান থেকেই বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, “দল সমস্ত দিক থেকে নজর রাখছে। সকলে তো স্থান পাবে না। যেমন আমার মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি। কেউ দেখেছেন কখনও আমার দায়িত্ববোধ এবং অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে? দলকে সময় দিইনি দেখছেন কখনও? আমার থেকে বহু যারা যোগ্যতায় ধারের কাছে নেই তারা সকলে মন্ত্রী হয়েছেন। কী হয়েছে তাতে”।
তিনি আরও বলেন, “আমি মন্ত্রী নই। কিন্তু আমার মধ্যে সিনসিয়ারিটি, ডেডিকেশানের কোনও অভাব কেউ দেখেছেন? আমি দলের কাজে সবসময় থাকি। কিন্তু অনেকেই আছে যাঁরা আমার থেকে সব দিক থেকে কম যোগ্য, তা সত্ত্বেও তাঁরা মন্ত্রী”। তাঁর এহেন মন্তব্যকে ঘিরেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এই নিয়ে নব্য-পুরনোর তত্ত্ব টেনেছেন অনেকেই।
তবে তাপস রায়ের মতে, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই নয়ে এক সংবাদামাধ্যমে তিনি জানান, “আমার কথার অপব্যাখ্যা হচ্ছে। আমি বলেছি মন্ত্রিসভা বা দলের পদে কাস্ট, জেলা এরকম অনেক ডিভিশন থাকে। সব সময় সব যোগ্য লোককে করা যায় না। আমি বোধহয় দলে প্রথম নতুন প্রজন্মকে সামনে আনার কথা বলেছি। ওদের জন্য জায়গা ছাড়ার কথা বলেছি। এ নিয়ে ক্ষোভ নেই। আর দলকে অস্বস্তিতে ফেলতে বা বেসুরো কোনও কথা আমি এখনও পর্যন্ত বলিনি”।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নিজের রোগীকে এসএসকেএমে ভর্তি না করাতে পেরে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন মদন মিত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ ডিপার্টমেন্টকেও তোপ দাগেন তিনি। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তড়িঘড়ি মদন মিত্রের বিষয়টি ‘ক্লোজড চ্যাপ্টার’ বলে আখ্যা দেন। কিন্তু বিতর্ক তাতে থামেনি। আর এবার মদনের পর ফের ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তাপস রায়ও।





