তোলাবাজির প্রতিবাদের জের, ছুরির কোপ মেরে খু’ন বিজেপি নেতাকে, বনধের ডাক গেরুয়া শিবিরের

তোলাবাজির প্রতিবাদ করার জেরে খু’ন হতে হল বিজেপি যুব মোর্চার নেতাকে। এলাকার এক কাপড়ের দোকানে ঢুকে তোলাবাজি করে তিন দুষ্কৃতী। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করতেই ছুরি দিয়ে কোপানো হয় বিজেপি নেতাকে। মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায় গেরুয়া শিবির।

ঠিক কী ঘটেছিল?

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের শিবডাঙ্গি এলাকায়। নিহতের নাম অসিত সাহা। তিনি বিজেপির যুব মোর্চার ইসলামপুর শহর মণ্ডল সম্পাদক পদের দায়িত্বে ছিলেন। জানা গিয়েছে, গতকাল, শনিবার সকালে ইসলামপুর বাজারের বীজাহাটি এলাকার এক কাপড়ের দোকানে হামলা চালায় তিন দুষ্কৃতী। ব্যবসায়ীর থেকে জোর করে টাকা আদায় করতে থাকে তারা।

এই ঘটনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান ওই বিজেপি নেতা। প্রতিবাদ করায় ওই বিজেপি নেতা-সহ আরও দু’জনকে ছুরি দিয়ে কোপায় দুষ্কৃতীরা। এরপরই সেখান থেকে পালায় তারা। জখমদের গুরুতর আহত অবস্থায় ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সন্ধ্যেয় মৃত্যু হয় বিজেপি নেতার।

ঘটনার প্রতিবাদে ইসলামপুরে ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক বিজেপির

এই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল, শনিবার ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। ইসলামপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পুলিশের সঙ্গে তরজায় জড়িয়ে পড়েন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। পুলিশ বোঝানোর পর অবরোধ তোলা হয়। এই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দলীয় নেতাকে খুনের ঘটনায় রবিবার ইসলামপুরে ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দিয়েছে গেরুয়া শিবির।

কী জানান নিহতর পরিবার?

নিহতের মামার অভিযোগ, “দীর্ঘদিন ধরেই প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে টাকার দাবি করছিল বলে স্থানীয় তোফিক নামে এক যুবক। গত চারদিন আগেও টাকার দাবীতে দোকানে গোলমালের চেষ্টা করে ওই দুষ্কৃতীরা। এরপর সকালে দুই সঙ্গীকে নিয়ে সাহিল নামে এক যুবকের নেতৃত্বে ও দোকানে এসে ফের টাকার দাবি করেন। হুমকি দিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করে। প্রতিবাদ করায় সেসময় দোকানে বসে থাকা আমার ভাগ্নার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরি চালিয়ে দেয় ওই দুষ্কৃতী। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে আরও এক যুবক ছুরিকাহত হন”।

কী জানাচ্ছে বিজেপি?

এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির যুব মোর্চার জেলা সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ চক্রবর্তীর অভিযোগ, “ইসলামপুরে একের পর খু’ন হচ্ছে। আজ যুব মোর্চার নেতাকে তোলাবাজির প্রতিবাদ করায় খু’ন হতে হল। খুন আটকানোর চেষ্টা করেছে না প্রশাসন। শুধু একজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করলেই চলবে না, মূল মাথাকে ধরতে হবে”।

RELATED Articles