জমা জলে মশার লার্ভা, মশার আঁতুড়ঘর স্বাস্থ্যকেন্দ্রই, ডেঙ্গুর চোখ রাঙানির মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই দেখা মিলল চূড়ান্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের

যেখানে-সেখানে আবর্জনা পড়ে রয়েছে। কেউ মুখে রুমাল চাপা দিয়ে তো কেউ নাকে হাত চাপা দিয়ে যাচ্ছেন-আসছেন। এমনই অস্বাস্থ্যকর এক পরিবেশের দেখা মিলল খোদ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যেই। সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই চিকিৎসা করাতে আসতে হচ্ছে রোগীদের। উপায় যে নেই!

কী হাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের?

এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দক্ষিণ পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের। অভিযোগ, প্রায় একমাসের বেশি সময় ধরে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সাফাই কাজ বন্ধ। প্রসব কেন্দ্র থেকে শুরু করে জরুরি বিভাগ, সব জায়গায় এই একই ছবি। ডাস্টবিনে উচ্ছিষ্ট উপচে পড়ছে। শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতর নয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে চারিপাশের অবস্থাও সেই একইরকম।  

একেই রাজ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবস্থা খারাপ। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই এমন বেহাল দশা দেখে আতঙ্কিত হতে হয় বৈ কী! হাসপাতালের ভিতরেই জমে বৃষ্টির জল। সেই জল এখন মশার আঁতুড়ঘর। হলদে হয়ে যাওয়া সেই জমা জলে কিলবিল করছে মশার লার্ভা। তা সত্ত্বেও বাধ্য হয়েই সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই চিকিৎসা করাতে যেতে হচ্ছে রোগীদের।

এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যে শুধুমাত্র রোগীদের বিপত্তি বেড়েছে তাই-ই ব্য, বিপাকে পড়েছেন অ্যাম্বুলেন্স চালক থেকে শুরু করে হাসপাতালের সিভিক ভলান্টিয়াররাও। একই অবস্থা চিকিৎসক ও নার্সদেরও।

কিন্তু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কেন এমন অবস্থা?

বান্দোয়ান ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক কাজীরাম মুর্মু জানান, “নিকাশি ব্যবস্থা ছাড়াই হাসপাতালের ভবন নির্মানের ফলে প্রতি বছর বর্ষায় জল জমে। অন্যদিকে হাসপাতালের আবর্জনা সাফাইয়ের দায়িত্বে থাকা সংস্থার চুক্তি সমাপ্ত হয়ে যাওয়ায় সাফাই কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। গোটা বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য দফতরে জানানো হয়েছে”।

এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে স্বাস্থ্যদফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই বিষয়ে বান্দোয়ান বিধানসভার বিধায়ক তথা ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান রাজীবলোচন সোরেন বলেন, “বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

আরও অন্যান্য খবর