স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলেও লাগবে বাড়তি টাকা, দিতে না পারায় অস্ত্রোপচার মাঝপথে থামিয়ে রোগীকে নামিয়ে দিলেন চিকিৎসক

রয়েছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাড়তি টাকা লাগবে। সেই টাকা না দিতে পারার কারণে মাঝপথেই অস্ত্রোপচার থামিয়ে রোগীকে অপারেশন টেবিল থেকে নামিয়ে দেওয়া হল। এমনই অভিযোগ উঠল এক বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রোগীর পরিজনরা।

কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?

ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার কাটজুড়িডাঙা গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। জানা গিয়েছে, পেশায় অটোচালক শেখ আলমগীর গত সোমবার সকালে পেটে ব্যথা নিয়ে বাঁকুড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর থানার ফুলবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটার নাগাদ অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। চিকিৎসক নিমাই মুর্মু ল্যাপ্র্যোস্কপি শুরুও করেছিলেন। কিন্তু মাঝপথেই বন্ধ করে দেওয়া হয় অপারেশন।  

জানা গিয়েছে, এই সময় রোগীর স্ত্রী শামিমাকে ডেকে পাঠান ওই চিকিৎসক। অভিযোগ, অপারেশন চলাকালীন আরও ২০ হাজার টাকা নগদ দাবী করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে সেই সময় নগদ টাকা না দিতে পারায় মাঝপথেই অপারেশন বন্ধ করে দেন চিকিৎসক, এমনটাই অভিযোগ। এরপরই আলমগীরের দাদা শেখ জাহাঙ্গির ওই বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে পুলিশের দারস্থ হন।

কেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও নগদ টাকার দাবী করা হল?

এমন অমানবিক ঘটনা ঘটালেও তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়ে জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সাঁতরা বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব। তবে এহেন ঘটনায় বেআব্রু হল বেসরকারি নার্সিংহোমের অমানবিক মুখ”।

এই প্রসঙ্গে বাঁকুড়া সদর থানার ওসি দেবাশিষ পাণ্ডে বলেন, “ঘটনাটি শুনে অবাক হয়েছি। বেসরকারি হাসপাতাল ব্যবসা করছে বলে তাদের মানবিক দিক থাকবে না। তা কী করে হয়”।

আরও অন্যান্য খবর