দেখতে দেখতে ৯৬ ঘণ্টা কেটে গেল মারা গিয়েছেন বলিউড তারকা সুশান্ত সিং রাজপুত। কিন্তু এখনও তাঁর মৃত্যু রহস্যের জট কাটল না। ময়না তদন্ত এবং ভিসেরা রিপোর্ট অনুযায়ী, গলায় ফাঁস দেওয়ায় শ্বাসরোধে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। পাশাপাশি পেশাগত শত্রুতার তত্ত্বও উঠে আসছে। কারণ বিগত ছয় মাসে তার হাত থেকে সাতটি ছবি চলে গিয়েছিল।
সুশান্তর ফ্ল্যাট থেকে সম্প্রতি পাঁচটি ডায়েরি নিজেদের হেফাজতে নিল মুম্বাই পুলিশ। অবসাদ নাকি কাজের অভাব কোনটা সব থেকে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল অভিনেতাকে? নাকি ধীরে ধীরে দুটোই গ্রাস করেছিল এই তরুণ প্রতিভাকে। তন্ন তন্ন করে এর উত্তর খুঁজে যাচ্ছে মুম্বাই পুলিশ।
এবার এই ডায়েরি গুলো পড়েই পুলিশ জানার চেষ্টা করবে, শেষ দিকে কতটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন ‘কাই পো চে’ অভিনেতা। সেই সঙ্গে তার ফোনও নিজের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ, ফোনের বিগত ১০ দিনের কললিস্ট খতিয়ে দেখা হবে। তিনি যাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মৃত্যুর আগের শেষ দশ দিন, তাদের নামের তালিকা বানানো হচ্ছে এবং সূত্র মারফত জানা গিয়েছে খুব জলদি তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে।
যদিও ইতিমধ্যই পুলিশ রেকর্ড করেছে অভিনেতার শেষ ছবি ‘দিল বেচারা’র পরিচালক মুকেশ ছাবরা, ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিকাশ গুপ্তা এবং বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর বয়ান। মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিনেতার ভাই এবং পটনার বিজেপি বিধায়ক নীরজ কুমার সিংহ ইতিমধ্যেই সুশান্তের মৃত্যু আত্মহত্যায় না পেশাগত চাপের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন। মহারাষ্ট্র সরকার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরেই মুম্বাই পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করছে সুশান্তের ঘনিষ্ঠ মহল।
অন্যদিকে, বুধবার অভিনেতার অবসাদের জন্য স্বজনপোষণকে দোষী করে বিহারের মজফফরপুর জেলা আদালতে বলিউডের চার তারকা সলমন খান, কর্ণ জোহর, একতা কপূর, সঞ্জয় লীলা বনশালীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী সুধীর কুমার ওঝা।
ওই আইনজীবী দাবি করেছেন সুশান্তের কাছ থেকে শুধু সাতটি ছবি কেড়ে নেয়া হয়েছিল তাইই নয়। তাঁর একাধিক ছবি আজও মুক্তি পায়নি। দিনের পর দিন এই বিষয়ে চাপ নিতে নিতে আর না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন এক লহমায় শেষ করে দেওয়ার মত সিদ্ধান্ত নেন এই তরুণ অভিনেতা।
কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় নিরুপমও এই একই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি টুইট করেছেন, সুশান্তের মতো প্রতিভার হাত থেকে কী করে সাতটি ছবি চলে যায়! বলিউডের আসল চেহারা কি এতটাই ভয়াবহ?





