এবার স্বজনপোষণের আঁচ লাগল মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতেও। সুশান্ত সিং রাজপুত এর মৃত্যু অনেক কিছুই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। তার মধ্যে স্বজনপোষণ সম্বন্ধে বিতর্ক সবথেকে বেশি হচ্ছে। এবার গায়ক সোনু নিগম ইউটিউব ভিডিওতে মুখ খুললেন মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে কীভাবে স্বজনপোষণ হয় এই নিয়ে। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দুই মিউজিক কোম্পানির বিরুদ্ধে।
সোনু বলেছেন, এ মুহূর্তে গোটা ভারত অনেক কিছুর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর আমরা অনেক মানসিক আবেগের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। চোখের সামনে এক তরতাজা প্রাণের এভাবে চলে যাওয়া কোনও মতেই মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু আপনাদের আমি একটা কথাই বলতে চাই যে শুধু অভিনয় জগতে নয়, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতেও একই অবস্থা। আমি মিউজিক কোম্পানিগুলোর কাছে কিছু অনুরোধ করতে চাই আজকে একজন অভিনেতা আত্মহত্যা করেছেন কিন্তু যে কোনও দিন যে কোনও সময় কোনও গায়ক, সুরকার, গীতিকার বা সঙ্গীত পরিচালকের সঙ্গে এমনটা হতে পারে।
সবথেকে বড় দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হল সিনেমার থেকেও বড় মাফিয়া সঙ্গীতজগতে রয়েছে। ব্যবসা করাটা দরকার সেটা ঠিক আছে কিন্তু অনেকেই ভাবেন যে আমি রাজত্ব করব, তাই আমি যেটা বলব সেটাই হবে। আমার ভাগ্য ভালো আমি অল্প বয়সে এসেছিলাম তাই আমাকে শুরুতে এতটা কষ্ট পেতে হয়নি। কিছু নতুন যারা আসছে তাদের জন্য সময়টা কঠিন। এটা নিয়ে অনেকেই আমার কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেক ক্ষেত্রে মিউজিক ডিরেক্টর কাজ করতে চায়, প্রযোজক কাজ করতে চায়, অথচ শেষ সময় মিউজিক কোম্পানি গিয়ে আটকে দেয়।”
এরপরের কথায় সবচেয়ে বড় বোমাটা ফাটান সোনু। স্পষ্ট বলেন, “আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে দুটো কোম্পানির হাতেই সমস্ত ক্ষমতা রয়েছে। ওরাই ঠিক করেন কে গাইবে আর কে গাইবে না। ধরুন আমি গাইতে গেলাম কিন্তু যে অভিনেতা অরিজিৎ সিং এর বিরোধিতা করেছেন তিনি হয়তো বলে দিলেন যে সোনু কে দিয়ে গাওয়াতে হবেনা। ব্যস ওখানেই আমার গান গাওয়া শেষ।”
তার এই কথা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তিনি ইঙ্গিতটা করেছেন সলমান খানের দিকে। কারণ সবাই জানে সলমান অরিজিত সিং এর উপর অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন তার জন্য তিনি অরিজিৎ সিং কে নিজের কোন সিনেমাতে গান গাইতে আর দেন না। সোনু তাই মিউজিক কোম্পানিগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে নতুনদের প্রতি আরও দয়ালু হতে যাতে কোনও ‘শক্তিশালী’ চাপে ঠিকঠাক প্রতিভারা হারিয়ে না যায়।





