দেশ নয় বিদেশের মাটিতে প্রথমবার বড় পর্দায় মুক্তি পেল সুশান্ত সিং রাজপুত অভিনীত শেষ সিনেমা ‘দিল বেচারা।’ মৃত অভিনেতার শেষ ছবি তাই দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনাও ছিল তুঙ্গে। গত ২৪ জুলাই, মুক্তির দিনই ডিজনি প্লাস হটস্টারে প্রায় ১০ কোটি মানুষ একসঙ্গে দেখেছিলেন ‘দিল বেচারা’। আইএমডিবিতে ১০ এ ১০ রেটিং পায় এই সিনেমা।
সুশান্তের এই সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলে যে দু’হাজার কোটির ব্যবসা করত প্রথম দিনেই, সমীক্ষায় এমন এক চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছিল। কিন্তু দর্শকদের একটাই আক্ষেপ যে, ছবিকে ঘিরে এত আবেগ, ভালোলাগা, যে ছবি সুশান্তের জীবনের গল্পই বলে, সেটা বড় পর্দায় দেখার সৌভাগ্য হল না! শেষবারের মতো প্রিয় নায়ক কে সিনেমা হলে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর সৌভাগ্য টুকুও হলো না ভারতীয় দর্শকদের।
কারন অবশ্যই সবার জানা। মারণ করোনাভাইরাসের জেরে ভারতে আপাতত বন্ধ সিনেমা হল, থিয়েটার। কিন্তু দেশে না হলেও করোনামুক্ত নিউজিল্যান্ডে সুশান্ত সিং রাজপুত অভিনীত শেষ ছবি বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পেলেন অনেকেই। বিশ্বের প্রথম দেশ যেখানে সুশান্তের শেষ ছবি সিনেমা হলে মুক্তি পেল। শুধু তাই নয়, থিয়েটার হলেই মাথা নীচু করে নীরবতা পালনের মাধ্যমে অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানালেন।
গোটা বিশ্ব যখন মারণ ভাইরাস জ্বরে কাঁপছে, নিউজিল্যান্ড তখন করোনাকে জয় করে হাসিমুখে স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করেছে। আর সেই সুবাদেই রেস্তরাঁ, শপিং মল, সিনেমা হল খোলায় আর কোনও বাধা নেই এখন ওই দেশে। গত একশো দিনে কোনও করোনা আক্রান্তের খবর না মিললেও সম্প্রতি সেখানে ৪ জন করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। কিন্তু থেমে থাকেনি তাঁরা। সেই সুবাদেই নিউজিল্যান্ডের ঝাঁ চকচকে থিয়েটারে রিলিজ করল সুশান্তের শেষ ছবি ‘দিল বেচারা’। সিনেমা শুরুর আগে দর্শকরা ৬০ সেকেন্ড নীরবতাও পালন করলেন প্রয়াত অভিনেতার উদ্দেশে।
অকল্যান্ডের হোয়েটস সিনেমা হলে ‘দিল বেচারা’র প্রিমিয়ারের আয়োজন করেছিল রেডিও তারানা নামে নিউজিল্যান্ডের এক জনপ্রিয় হিন্দি রেডিও চ্যানেল। শোয়ে উপস্থিত ছিলেন তারানার প্রধান জিলেশ দেশাই। জিলেশ বলেন, “আপনারা যখন এই সিনেমা দেখতে বাড়ির বাইরে বেরিয়েছেন। তখন এই ছবি যে এখানে উপস্থিত আপনাদের সবার জন্য ভীষণ স্পেশ্যাল, তা হলফ করে বলাই যায়।” দর্শকদের তিনি এও মনে করিয়ে দেন যে, “একমাত্র তাঁরাই এখনও পর্যন্ত প্রথম দর্শক যাঁরা সুশান্তের এই সিনেমাটি বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পেলেন।” সিনেমার শুরুতেই পর্দায় ভেসে ওঠে সুশান্ত সিং রাজপুতের জন্য প্রথম বিশ্ব শ্রদ্ধাঞ্জলি।





