কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে জ্বলছে আগুন। গতকাল, রবিবার বাংলাদেশে অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিনেই প্রায় ১০০ জনের মৃত্যুর খবর মেলে। এরই মধ্যে এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানা গিয়েছে, তাঁর ছোটো বোন শেখ রেহেনাও ছিলেন তাঁর সঙ্গে।
জানা গিয়েছে, আজ, সোমবার বেলা আড়াইটের সময় হেলিকপ্টারে করে বঙ্গভবন থেকে রওনা দেন শেখ হাসিনা। জানা গিয়েছে, হেলিকপ্টারে করে ত্রিপুরার আগরতলার দিকে যাচ্ছেন তারা।
জানা গিয়েছে, এদিন সেনা প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের পরই দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। সেনা প্রধানই তাঁকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেন। এদিন শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর তাঁর বাসভবন গণভবনের দখল নেন ক্ষিপ্ত জনতা। ঘোষণা পত্র দিয়ে দেশ ছাড়তে বলা হয় হাসিনাকে।
সূত্রের খবর, আজ, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল তিনটেয় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান। স্থানীয় সময় বিকেল চারটেয় বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করতে পারে সেনাবাহিনী। সূত্রের খবর, স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটেয় নিজের বাসভবন থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে রওনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার থেকেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবী তুলে ছাত্র নেতারা আন্দোলনের ডাক দেন। গতকাল, রবিবার সেই আন্দোলনের তীব্রতা মাত্রা ছাড়ায়। এদিন শুরু হয় বাংলাদেশে অসহযোগ আন্দোলন। ভয়ঙ্কর রূপ নেয় আন্দোলন
জানা গিয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, পাবনা, সিলেট, ফেণী, বগুড়া, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ সহ একাধিক এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় সরকারকে সমর্থনকারী আওয়ামি লিগ ও পুলিশের সঙ্গে। ২০টি জেলা ও মহানগর মিলিয়ে আন্দোলনের প্রথম দিনেই প্রায় ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শতাধিক মানুষ আহত। ১৪ জন পুলিশকর্মীর মৃত্যুর খবরও মিলেছে।
জানা গিয়েছে, আজ, সোমবার সকালেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে, তা জানা যায়নি তবে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা কোথায় রয়েছেন, তা জানা যাচ্ছে না। শোনা যাচ্ছে, নিরাপদ কোনও গোপন ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন হাসিনা। মন্ত্রিপরিষদ ও নীতি নির্ধারকদের অনেকেই দেশ ছেড়েছেন বলে সূত্রের খবর। অশান্তির আঁচ বাড়তেই আওয়ামি লিগের নেতারাও গা ঢাকা দিয়েছেন।





