ট্রাম্পকে পাল্টা দিলেন জিনপিং! চীনে বন্ধ হচ্ছে মার্কিন দূতাবাস

এবার ঠান্ডা লড়াইয়ে সরাসরি নামল চীন ও আমেরিকা। আমেরিকা নির্দেশ দিয়েছিল যে আগামী শুক্রবারের মধ্যেই টেক্সাসের হিউস্টন শহরে বন্ধ করে দিতে হবে চীনা দূতাবাস। এবার পাল্টা জবাব দিল চীন। এবার চীনের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে চীনে এবার বন্ধ হবে মার্কিন দূতাবাস! অর্থাৎ একটা কথা স্পষ্ট যে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ চরমে উঠেছে।

করোনায় সব থেকে বড় ক্ষতি হয়েছে আমেরিকার। এই রোগের প্রাথমিক ধাক্কা চীন সামলালেও পরবর্তীকালে গিয়ে করোনার জেরে নাজেহাল হচ্ছে গোটা বিশ্ব। এই কারণে আমেরিকা চীনের ওপর ক্ষিপ্ত তো রয়েছেই সেই সঙ্গে উপরি হিসেবে যোগ হয়েছে আমেরিকার ‘বন্ধু’ দেশগুলোর প্রতি চীনা আগ্রাসনের ঘটনা। গোটা বিশ্বে চীন দাদাগিরি করে বেড়াবে এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না আমেরিকা। তাই চীনকে উচিত শিক্ষা দিতে এবার টেক্সাসের হিউস্টন শহরে চীনা দূতাবাসই বন্ধ করে দিল ট্রাম্প প্রশাসন। প্রত্যুত্তরে করোনাভাইরাস এর উৎসস্থল উহান শহরের মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দিল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সরকার!

যদিও বুধবার‌ আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট এর মুখপাত্র মর্গ্যান অরটাগাস জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য সুরক্ষিত রাখতেই চীনা দূতাবাস বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যদিও চীনের এই পদক্ষেপের ফলে আমেরিকা কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে। কারণ শুক্রবার আমেরিকায় চীনা দূতাবাস বন্ধ হওয়ার কথা ছিল এর ফলে গোটা বিশ্ববাসীকে বোঝানো যেত যে আমেরিকা চীনকে কড়া বার্তা দিচ্ছে কিন্তু তার আগেই চীন উহান শহরে আমেরিকার দূতাবাস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘আমেরিকাকে ভয় পাইনা’ গোছের একটি মনোভাব প্রকাশ্যে এনে ফেলল।

আমেরিকার পক্ষে এই দিন মর্গ্যান অরটাগাস জানান, চীন আমেরিকার সার্বভৌমত্বে আঘাত করেছে। যা মেনে নেওয়া সম্ভব নয় কোন মতেই। তিনি বলেন, ভিয়েনা চুক্তি অনুসারে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মাথা গলানো যাবে না। কিন্তু বেজিং এই চুক্তিতে স্থির থাকেনি। তাঁরা চুক্তি ভঙ্গ করেছে।

তবে শুধুমাত্র টেক্সাসের হিউস্টন শহরের চীনা দূতাবাসই বন্ধের নির্দেশ কেন দেওয়া হল সেই ব্যাপারটি এখনও কারোর কাছে পরিষ্কার নয়। ‌

অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বেজিং-এর বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, দূতাবাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত তীব্র করছে আমেরিকা।

এদিকে আমেরিকার সংবাদ মাধ্যম মারফত জানা যাচ্ছে যে মঙ্গলবার রাতে টেক্সাসের হিউস্টন শহরের জরুরি নথি পুড়িয়ে ফেলতে দেখা যায় চীনা অধিকারিকদের। বিষয়টি সামনে আসার পরে, তদন্তের জন্য পুলিশকর্মীদের দূতাবাস চত্বরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে এখনও কোন মন্তব্য করেনি চীনের বিদেশমন্ত্রক ওয়াং ওয়েনবিন।

RELATED Articles

Leave a Comment