বার বার বৌবাজারের বাড়িগুলোতে ফাটল কেন? প্রশ্নের মুখে মেট্রোরেল কতৃপক্ষ

মেট্রোর কাজ শুরু হতেই ফের ফাটল দেখা দিল বউবাজারের গৌর দে লেনের প্রায় ২৩টি বাড়িতে। বউবাজার অঞ্চলের অধিকাংশ বাড়িই সেই ব্রিটিশ আমলের সাক্ষী। এক সময় এই বৌবাজারের বুকেই ছিল বৌরানীর খাল। তাই স্বাভাবিকভাবেই সেখানকার মাটি বেশ নরম এবং বাড়িগুলি বেশি ভাইব্রেশন নিতে অক্ষম। বেশ কয়েকটি বাড়িতে ফাটল যথেষ্টই চওড়া। বেশ কয়েকটি বাড়িতে খসে পড়ছে ছাদের সিলিংয়ের প্লাস্টার। দেওয়ালের প্লাস্টার ও খসে পড়ছে। এমন কী, ফাটল ধরেছে মেঝেতেও।

এমনই অভিযোগ বউবাজারের গৌর দে লেনের একাধিক বাড়ির বাসিন্দাদের। এই জায়গাটি সোনাপট্টি নামে। এই গলিতেই বেশ কিছু সংস্কার হওয়া বাড়ির পাশাপাশি ,রয়েছে একটি ছোট বস্তি। বারবার ফাটলের ঘটনা ভয়ের উদ্বেগ তৈরি করেছে বাসিন্দাদের মনে।

গত অগাস্ট মাসেও এই বাড়িগুলিতেই ফাটল ধরা পড়েছিল। তখন অবশ্য এই সব বাসিন্দাদের পাঠানো হয়েছিল হোটেলে। ফাটলের মেরামতি করা হয়েছিল। আবার সেই ফাটলের পুনরাবৃত্তি দেখা গিয়েছে আর তার সাথে নতুন কিছু ফাটলেরও সৃষ্টি হয়েছে। ওই বাড়িগুলির বাসিন্দাদের দাবি, মেট্রো কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানিয়েছিল, এই সমস্ত বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূর দিয়ে টানেল বোরিং মেশিন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার পরেও কেন ফাটল তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁরা।

২০১২ সাল থেকে ৩/২ গৌর দে লেনের একটি ছোট ঘরে পিকা সরককের তাঁর পরিবার নিয়ে থাকতে শুরু করেন। বাড়ির ফাটল দেখে তিনিও বেশ ভীত। পিকাদেবীর শাশুড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার মধ্যেই ফের বাড়িতে ফাটল। তাঁর বক্তব্য, ‘মেট্রোর ইঞ্জিনিয়াররা এসে আমাদের সঙ্গে নূন্যতম কথাটুকু বলুক। আমাদের জীবনের কি কোনও দাম নেই? যদি আবার এই বাড়ি ভেঙে পরে তখন কী হবে? আমাদের ঘর হারানোর যন্ত্রণা ওনারা বুঝবেন না। মেট্রো হবে বলে আমি আমার সব হারিয়ে ফেলব, এটা তো হতে পারে না।’
কিন্তু তাঁদের এই কথা কে শুনবে? প্রশ্ন গৌর দে লেনের বাকি বাসিন্দাদের। ফলে ফাটল ধরা বাড়িতে ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন তাঁরা। একই অভিযোগ ত্রিলোচন কেশরীর। নিজের সদ্য সংস্কার হওয়া বাড়ি দেখিয়ে তাঁর অভিযোগ, ‘ছাদে অজস্র ফাটল। মেঝেও অসমান হয়ে পড়েছে। দেওয়ালের চাঙর খসে খসে পড়ছে। এমন কী, মেঝেতেও ফাটল ধরা পড়েছে।’

গৌর দে লেনের বাড়ির বাসিন্দারা বেশ জোরের সঙ্গেই বলছেন, এই ফাটল টানেল বোরিং মেশিন পুনরায় কাজ শুরু করার পর ফের শুরু হয়েছে। তাই নিজেদের বাড়ি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন এই পাড়ার বাসিন্দারা।

গৌর দে লেনের এই ফাটল প্রথমে নজরে আসেনি মেট্রো আধিকারিকদের। এমনই অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের। তবে গোটা ঘটনা জানার পর এলাকায় বিশেষজ্ঞদের দল পাঠাচ্ছে কেএমআরসিএল। ফাটল বিপজ্জনক বলে মনে না করলেও, দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে চাইছেন মেট্রো কর্তারা। গৌর দে লেনের যে সব বাড়িতে ফাটল ধরা পড়েছে সেই বাড়িগুলি পরিদর্শন করেন স্থানীয় কাউন্সিলর সত্যেন্দ্রনাথ দে। তিনি কেএমআরসিএল আধিকারিকদের অনুরোধ করেন, এই বাড়িগুলির বাসিন্দাদের যেন আপাতত অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আশঙ্কা থেকেই যায় ফের বাড়ি ভেঙে পড়বে না তো? তবে কেএমআরসিএল আধিকারিকরা আশ্বস্ত করেছেন ফাটলগুলো দ্রুত মেরামতির।

কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায় বারংবার যদি এই ভাবে ফাটল দেখা দিতে থাকে তবে মেট্রো আধিকারিকরা কেন আগে থেকে যথাযথ প্ল্যান করছেন না? নাকি সব জেনেও তারা এই ভাবেই মানুষকে নাজেহাল ও সন্ত্রস্ত করে যাবেন। প্রশ্নের উত্তর একমাত্র সময়ই দেবে।

RELATED Articles

Leave a Comment