টলিউডের হাজার হাজার টেকনিশিয়ানের জন্য বড় উদ্যোগ নিয়েছিলেন অভিনেতা ও সাংসদ দেব (Dev)। সম্প্রতি তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে টালিগঞ্জের প্রায় ৭০০০ জন টেকনিশিয়ানের জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৪ মার্চ শুরু হয় প্রথম দিনের ক্যাম্প। প্রথম দিনেই বহু টেকনিশিয়ান উপস্থিত হয়ে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। এই উদ্যোগে দেবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকও। টলিউডের কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন দেব। প্রথম দিনের সাফল্যের পরই আশা ছিল আরও বড় পরিসরে এই কাজ এগিয়ে যাবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৬ মার্চ দ্বিতীয় দিনের ক্যাম্প হওয়ার কথা ছিল। সকাল থেকেই বহু টেকনিশিয়ান ক্যাম্পে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্য। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে এসে তাঁরা জানতে পারেন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া। আচমকা এমন সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক হয়ে যান। কারণ মাত্র দুদিন আগেই জোর কদমে শুরু হয়েছিল এই উদ্যোগ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে কেন হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল স্বাস্থ্যসাথী কার্ড তৈরির কাজ।
এই জল্পনার মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট করেন দেব। তিনি জানান, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এখন কার্যকর হয়েছে মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট। এই নিয়ম বলবৎ হলে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বা পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। দেব বলেন, আগেই তিনি আশঙ্কা করেছিলেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই নিয়ম মেনেই আপাতত স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রেজিস্ট্রেশনের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
লাইভে দেব আরও বলেন, অনেকেই হয়তো তাঁর ফেসবুক পোস্ট দেখতে পাননি। সেই কারণেই অনেক টেকনিশিয়ান সকালে ক্যাম্পে চলে এসেছিলেন। তাঁদের অসুবিধার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান। দেব জানান, তাঁর টিম থেকে খবর পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন বহু মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। তাই সবার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করতে এবং দুঃখপ্রকাশ করতেই তিনি লাইভে আসেন।
আরও পড়ুনঃ West Bengal elections 2026: বিজেপির প্রার্থী তালিকায় পুরনো মুখের চমক! আসানসোল দক্ষিণে ফের ভরসা অগ্নিমিত্রা পালের উপর! ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রামে মমতার ঘাঁটিতে লড়বেন শুভেন্দু অধিকারী—১৪৪ জনের তালিকায় আর কারা পেলেন টিকিট?
তবে এখানেই শেষ নয়। দেব আশ্বাস দিয়ে বলেন ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরই আবার শুরু করা হবে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রেজিস্ট্রেশনের কাজ এবং তা আরও বড় আকারে করা হবে। তাঁর কথায়, অনেক টেকনিশিয়ান এখন নিয়মিত কাজ পান না এবং অসুস্থ হলেই বিপুল খরচের মুখে পড়তে হয়। সেই কথা ভেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাই একটু অপেক্ষা করতে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা থাকলে খুব শীঘ্রই আবার এই পরিষেবা চালু করা হবে।





