করোনার করালগ্রাসে যখন সারা পৃথিবী নিমজ্জিত ঠিক সেই সময়ই করোনা রোগীদের হাসপাতলে ভর্তি নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় রোগীর পরিজনদের। তবে গত সোমবার এমন একটি নারকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল হাওড়া জেলা হাসপাতাল, যা ইতিমধ্যে কোনদিন ঘটেনি। হাসপাতাল চত্বরেই কয়েক ঘণ্টা পড়ে রইল এক ভবঘুরে বৃদ্ধের মৃতদেহ। শুধু তা-ই নয়, বৃদ্ধের পায়ে ক্ষত ছিল। ভিড় করে ওই ব্যক্তির পায়ের ক্ষত ঠুকরে খেল কাক। চোখের সামনে এই নৃশংস ঘটনা দেখতে হলো হাসপাতালে আসা বিভিন্ন রোগীর পরিজনদের।
এই নৃশংস ঘটনার সাক্ষী এক রোগীর আত্মীয় জানান, এর আগেও বেশ কয়েকবার ওই ভবঘুরে ব্যক্তিকে হাসপাতাল চত্বরে দেখা গিয়েছিল। এ দিনও তিনি হাসপাতালের সামনে ঋষি বঙ্কিম সরণিতে ঘোরাঘুরি করছিলেন। পরে তাঁকে দুপুর আড়াইটা থেকে ওয়ার্ডমাস্টারের ঘরের সামনে পড়ে থাকতে দেখা যায়। করোনা ভীতির জন্য সাহায্যার্থে কেউ হাত বাড়িয়ে দেয়নি। ওয়ার্ড মাস্টারকে জানালে তিনি ওই বৃদ্ধকে জরুরী বিভাগে পাঠিয়ে দেন এর পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
হাসপাতালের সুপার নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বৃদ্ধ যেখানে পড়ে ছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে, আমি সেখান দিয়ে দেড়টার সময়ে গিয়েছি। কিন্তু তাঁকে দেখতে পাইনি। এমন অনেকেই খাবারের আশায় হাওড়া হাসপাতালে এসে ঢোকেন। অসুস্থ থাকলে ভর্তি করে নেওয়া হয়। ওই ব্যক্তি যে অসুস্থ, বুঝব কেমন করে? তা ছাড়া, খবর পাওয়া মাত্রই তাঁকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন ওয়ার্ডমাস্টার। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।’’ তিনি আরোও বলেন, ওই ব্যক্তি কেন কারোও নজরে পড়লো না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে যে, করোনা আবহে এরকম নৃশংস ঘটনার সাক্ষী তাদের আরো কতবার হতে হবে!
প্রতিবেদনটি লিখেছেন – অন্তরা ঘোষ





