ডিসেম্বরের ঠান্ডা রাত, শহর যখন ধীরে ধীরে ঘুমোতে যায়, ঠিক তখনই কলকাতার রাস্তায় জমতে শুরু করে অন্য রকম এক উত্তেজনা। সোয়েটার-জ্যাকেট গায়ে, হাতে মোবাইল, চোখে অদ্ভুত আলো—এটা কোনও উৎসবের ভিড় নয়, এটা অপেক্ষা। অপেক্ষা এমন একজনের জন্য, যাঁর নামেই হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। বহু বছর পর ফের কলকাতায় আসছেন ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি। তাই রাত যত গড়িয়েছে, ততই যেন শহরের ঘুম উধাও হয়েছে।
মাঝরাত পেরিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরের বাইরে তখন উপচে পড়া ভিড়। নির্ধারিত সময় পেরোলেও কারও মুখে বিরক্তি নেই। বরং সময় যত বাড়ছে, উন্মাদনা ততই চওড়া হচ্ছে। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে বারবার উঠছে একটাই নাম—‘মেসি’। অবশেষে ঘড়ির কাঁটা যখন ৩টা ২০ ছুঁল, বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে এল কনভয়। মুহূর্তের মধ্যেই চিৎকারে ফেটে পড়ল এলাকা। এক ঝলক লিওনেল মেসিকে দেখেই কয়েক ঘণ্টার ক্লান্তি যেন মিলিয়ে গেল চোখের নিমেষে।
এমন দিনে কি আর সকালে ঘুম হয়? ভোর সাড়ে চারটেয়ই সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সামনে হাজির ভক্তরা। বয়সের কোনও সীমা নেই—স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে প্রবীণ ফুটবলপ্রেমী, সবাই আজ এক সুতোয় বাঁধা। অনেকেই রাতভর অপেক্ষা করেছেন শুধু কাছ থেকে দেখার আশায়। ১৪ বছর পর কলকাতায় পা রেখেছেন বিশ্বজয়ী তারকা, সেই আবেগই যেন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা শহরে। আজকের দিন যে সাধারণ দিনের মতো নয়, তা সবাই বুঝে গিয়েছেন।
বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বাইপাস সংলগ্ন একটি হোটেলে ওঠেন মেসি। সেখানেই রয়েছে উদ্যোক্তাদের আয়োজিত ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠান। এখান থেকেই ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন নিজের মূর্তি। এরপর দিনের মূল আকর্ষণ—যুবভারতীতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ। মাঠের বাইরে থেকেও যে তিনি মানুষের মনে কতটা জায়গা করে নিয়েছেন, তার প্রমাণ মিলছে প্রতিটি মুহূর্তে।
আরও পড়ুনঃ Osman hadi: “জুলাই আন্দোলনের ছাত্র নেতাকে টার্গেট করে পরিকল্পিত হামলা?”ভারতের মানচিত্র বিকৃত করে পোস্ট হওয়ার ঘণ্টার মধ্যে ওসমান হাদির জীবন বিপন্ন!
এই ‘GOAT Tour’-এ কলকাতার মঞ্চে মিলছে একাধিক তারকার উপস্থিতি। শাহরুখ খান নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসির সঙ্গে দেখা হওয়ার উচ্ছ্বাস ভাগ করে নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। সব মিলিয়ে আজকের কলকাতা শুধু একটি শহর নয়—এ যেন ফুটবল আবেগের এক জীবন্ত মানচিত্র। আর সেই মানচিত্রের কেন্দ্রে রয়েছেন একজনই—লিওনেল মেসি।





