করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার শেষ হলো কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন এবং বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা অ্যাফকনস – এর যৌথ ভাবে সম্পন্ন করা বায়ু চলাচলের জন্য ৪৩.৫ মিটার গভীর ভেন্টিলেশন শ্যাফট তৈরীর কাজ।
এটির কাজ শেষ হওয়া মানে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ শেষ হওয়া, বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। এই ভেন্টিলেশন শ্যাফট -এর মাধ্যমে শুধু যে মেট্রো চলাচলের জন্য তৈরি সুরঙ্গপথে বায়ু চলাচল করতে পারবে তা নয়, কখনো কোনও জরুরি অবস্থায় ঐ কুয়ো দিয়েই সকলকে সুরঙ্গ থেকে বের করে আনা সম্ভব হবে। এই ভেন্টিলেশন শ্যাফটি স্ট্র্যান্ড রোডে হুগলি নদীর তীরে তৈরি হয়েছে। এই শ্যাফট -এর যা গভীরতা তাতে একটি ১৫ তলা আবাসন এতে ঢুকে যাবে।
কি এই ভেন্টিলেশন শ্যাফট যা নির্মাণকারী সংস্থা অ্যাফকনস বানিয়েছে। এটা দেখতে একটা বিশালাকৃতি কুয়োর মতোই যেটা মোটা কংক্রিট বেড় দিয়ে বাঁধানো আছে। যেখান দিয়ে অতি সহজেই অক্সিজেন পাঠানো সম্ভব হবে। ভেন্টিলেশন শ্যাফট থেকে হাওড়া মেট্রো স্টেশনের দূরত্ব ৭৫০ মিটার। এই শ্যাফট – এর একদিকে হুগলি নদী পার করলেই হাওড়া স্টেশন ও অপর দিকে মহাকরণ মেট্রো স্টেশন।

মহাকরণ মেট্রো স্টেশন এই ভেন্টিলেশন শ্যাফট -এর থেকে ১৪০০ মিটার দূরে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে দুটি মেট্রো স্টেশনের মাঝে দূরত্ব ১ থেকে ১.৫ কিমি হওয়া দরকার যদিও হাওড়া স্টেশন থেকে মহাকরণ ২ কিমি দূরে। ফলে মাঝের অংশে ভেন্টিলেশন শ্যাফট ভীষণ জরুরী। এই অংশের প্রজেক্ট ম্যানেজার সত্যনারায়ন কুনওয়ার বলেছেন, “মাটির তলায় ভূতাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে অভিনব ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল এবং পদ্ধতি অবলম্বন করে এই মেট্রো শ্যাফট তৈরি করা হয়েছে”।
বর্তমানে দুদিকের সুড়ঙ্গের সাথে শ্যাফট জোড়ার কাজ চলছে। শ্যাফট বানানোর জায়গায় কাজ করা অতি দুঃসাহসিকতার ছিল। কারণ পাশ দিয়ে হুগলি নদী বয়ে যাওয়ার সাথে সাথে রয়েছে চক্ররেলের লাইন। একবার কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল জলস্তর উঠে যাওয়ার কারণে যেহেতু অ্যাকুইফার ছিল সেখানে। তবে টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জ সামনেও সেই কাজ নির্মাণকারী সংস্থা অ্যাফকনস করে দেখিয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে এই প্রকল্প চালু হলে হাওড়া থেকে দৈনিক ৭ লক্ষ মানুষ মেট্রোর মাধ্যমে সহজেই গঙ্গা পেরিয়ে প্রান্তে আসতে পারবেন।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন : অন্তরা ঘোষ





