দেশজুড়ে এখন করোনার ভয়ে সবাই কাবু। সংক্রামিতের হার ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সংক্রমন রুখতে আজ প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে ৩রা মে অবধি করে দিলেন। দেশে এখন শুধুই জরুরি পরিষেবাগুলি চালু রয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যা প্রমান করছে রাজ্যে চিকিৎসার পরিকাঠামো কতটা দুর্বল।
সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে এখন রোজের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে রোগী মৃত্যুর পর করোনা আতঙ্ক।আর তার জেরে হাসপাতাল চত্বর সম্পূর্ন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে , যাতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।এনআরএস, আরজিকর সহ কিছু বেসরকারি হাসপাতালের পর সেই একই ঘটনা ঘটল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে।
করোনা আক্রান্ত সন্দেহে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কলকাতা মেডিকেল কলেজে ফের উত্তেজনা ছড়ায়। এরপর রোগী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হল পুরুষ এবং মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে। যেসমস্ত রোগীরা ভর্তি আছেন তাদের নমুনা পরীক্ষা করা ও অন্য বিল্ডিং-এ সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরপর বন্ধ হয়ে যেতে পারে জরুরি বিভাগও। পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জরুরি বৈঠকে বসেছে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
মৃত রোগী করোনা সংক্রামিত, খবর ছড়ানোর পর থেকেই হুলুস্থুল বেঁধে যায় চারিদিকে। বন্ধ করে দেওয়া হয় এমসিএইচ বিল্ডি-এর সেকেন্ড ফ্লোরের মেডিসিন এবং ফিমেল মেডিসিন ওয়ার্ড। পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে ওই এমসিএস বিল্ডিংয়ের কার্ডিওলজি থেকে শুরু করে আরও দু-একটি ওয়ার্ড।
গতকাল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি ব্লকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ভর্তি রোগীর মৃত্যু হয়। মৃত্যর পর তার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে খবর ছড়ায়। এই খবরে রীতিমতো আতঙ্কে আছেন মেডিকেল কলেজের প্রতিটা স্টাফ। এরপর পুরুষ এবং মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগীদের গ্রীন বিল্ডিং এ সরিয়ে যাওয়া নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে চিকিৎসকদের মধ্যে। সবমিলিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয় চিকিৎসকদের। গতকাল নার্সদেরও বিক্ষোভের মুখে পড়েন মেডিক্যালের সুপার।
বার বার এই ঘটনা ঘটার পরও রোগী ভর্তির সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন একটা স্ক্রিনিং টেস্ট এর ব্যবস্থা করছেন না? এমন প্রশ্ন বার বার উঠে আসছে নানা মহল থেকে। প্রশাসন কবে এই বিষয় দৃষ্টি দেবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।





