চরম টানাপোড়েন চলল শেষ ৭২ ঘণ্টা। অবশেষে আটক ১০ ভারতীয় জওয়ানকে ছাড়তে রাজি হলো চীন। কূটনৈতিক এবং সামরিক পর্যায়ে দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর ভারতীয় সেনার ১০ জন জওয়ানকে ছেড়ে দিল পড়শি দেশ। গত সোমবার লাদাখ সীমান্তের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের সময় এই ১০ ভারতীয় জওয়ান কি আটক করেছিল সৈনিক সেনা।
নাম গোপন রাখার শর্তে আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কমপক্ষে দু’জন অফিসার-সহ ১০ জন জওয়ান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার এপারে অর্থাৎ ভারতে ফিরে এসেছেন। তারপর তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তাঁদের বিভিন্ন রকম প্রশ্ন জ্ঞিজাসা করেছেন আধিকারিকরা।
গত সোমবার ভোররাতের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার থেকে ভারতীয় এবং চীনা সেনার মধ্যে মেজর জেনারেল পর্যায়ের বৈঠক হয়। গালওয়ান উপত্যকায় প্যাট্রোল পয়েন্ট ১৪-র কাছে তিন দফার বৈঠকে ১০ জন ভারতীয় জওয়ানকে ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে সমাধানসূত্র বের করা হয়। বৃহস্পতিবার তৃতীয় বারের জন্য বৈঠকে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন কারুতে সদর দফতর থাকা ৩ ইনফ্র্যান্টি ডিভিশনের কম্যান্ডার মেজর জেনারেল অভিজিৎ বাপত।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভারতীয় জওয়ানদের নিরাপত্তার দিকে নজর দিয়ে আলোচনা অত্যন্ত গোপনে চালানো হয়েছিল। এমনিতেই দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ বেড়ে গিয়েছে। তাই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল।
তবে বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সেনার তরফে শুধু জানানো হয়, গালওয়ান সংঘর্ষে কোনও ভারতীয় জওয়ান নিখোঁজ হয়নি। কিছুক্ষণ পর বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও একই মন্তব্য করা হয়।
১৯৬২ সালের যুদ্ধের সময় শেষবার ভারতীয় জওয়ানদের আটক করেছিল চীন। সেই ঘটনার ৫৮ বছর সেই একই কাজ করল সেদেশের সেনা। ১৯৭৫ সালের পর সোমবার রাতে প্রথমবার চীনের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান ভারতীয় জওয়ানরা। ৪৫ বছর আগে অরুণাচল প্রদেশে সেই ঘটনা ঘটেছিল। পাশাপাশি, সোমবারের ঘটনায় ৭৬ জন ভারতীয় জওয়ান আহত হয়েছেন। তাঁরা আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চীনের তরফেও হতাহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৪৩ বলে সূত্রের খবর। তবে তা নিয়ে সরকারিভাবে মুখ খোলেনি বেজিং।





