দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ আটকানো যাচ্ছে না কিছুতেই। আক্রান্তের সংখ্যা দেশে মুহুর্মুহু বাড়ছে, এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৬। সর্দি কাশি জ্বর হলেও সবাই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পরীক্ষা করাতে যাচ্ছে। চাপ বাড়ছে সরকারি হাসপাতাল, ল্যাবের উপর। তাই এ বার বেসরকারি ল্যাবেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরীক্ষার অনুমোদন দিল কেন্দ্র। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী শনিবার রাতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তাতে বলা হয়েছে, নমুনা পরীক্ষার নির্দিষ্ট পরিকাঠামো রয়েছে এমন ৭৯টি ল্যাব করোনা সংক্রমণের পরীক্ষা করতে পারবে। তবে আইসিএমআর-এর দেওয়া তালিকাভুক্ত ল্যাবগুলিতে পরিকাঠামো রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলি।
নির্দিষ্ট হারে বেঁধে দেওয়া হয়েছে খরচও। আইসিএমআর-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী করোনার সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য সর্বোচ্চ সাড়ে চার হাজার টাকা নেওয়া যেতে পারে। তার মধ্যে স্ক্রিনিং-সহ অন্যান্য প্রাথমিক খরচ দেড় হাজার এবং চূড়ান্ত পরীক্ষার খরচ সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা নেওয়া যেতে পারে। সবাই তো এত টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে পারবে না, তাদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
এক্ষেত্রে বিনামূল্যে টেস্টের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে বেসরকারি ল্যাব গুলিকে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘জাতীয় জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার কথা মাথায় রেখে বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত টেস্টের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।’ পাশাপাশি ল্যাব পর্যন্ত আসার সময় সংক্রমণ ছড়ানো এড়াতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহের পক্ষেও সওয়াল করেছে আইসিএমআর।
সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি মিলিয়ে মোট ৭৯টি ল্যাবের তালিকা দিয়েছে আইসিএমআর। তার মধ্যে এ রাজ্যের রয়েছে পাঁচটি। রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর সূত্রে খবর, নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা করা, রিপোর্ট তৈরি এবং কিট ও অন্যান্য সামগ্রী নষ্ট করার মতো পরিকাঠামো রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে তার পরেই পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা থেকে রিপোর্ট আসা পর্যন্ত সমস্ত ‘বায়োসেফটি’ মেনে চলতে হবে ল্যাবরেটরিগুলিকে। টেস্টের জন্য কোন কিট ব্যবহার করতে হবে, তাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে আইসিএমআর-এর গাইডলাইনে। তবে চিকিৎসক টেস্টের পরামর্শ দিলে তবেই এই টেস্ট করা যাবে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, গাইডলাইন না মানা হলে সেই সব ল্যাবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এই গাইডলাইন পরিবর্তন করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে গাইডলাইনে।





