চলতি বর্ষে দেশজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা করছে ফিচ: এক ধাক্কায় জিডিপি কমবে ২ শতাংশ

করোনার জেরে দেশজুড়ে বন্ধ অফিস, কারখানা। দিনমজুরদের অর্থের জোগানও নেই । এবার চলতি অর্থবর্ষকে নিয়ে আশঙ্কার কথা প্রকাশ করল আন্তর্জাতিক মূল্যায়নকারী সংস্থা ফিচ। তারা আশঙ্কা করছে চলতি অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপির হার ২ শতাংশ কমবে। আর এই আশঙ্কা সত্যি হলে এক ধাক্কায় ৩০ বছর পিছিয়ে যাবে দেশের অর্থনীতি।

এর আগে, একাধিক মূল্যায়ন সংস্থা এধরনের পূর্বাভাস দিয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ফিচ-ও। সম্প্রতি, এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এডিবি) জানাচ্ছে , ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ভারতে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আরেকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এস অ্যান্ড পি-র এই সপ্তাহেই ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হারকে ৫.২ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৩.৫ শতাংশ করেছে।

এমনকী, ইন্ডিয়া রেটিংস অ্যান্ড রিসার্চ নামে সংস্থাও চলতি অর্থবর্ষকে ভারতের বৃদ্ধির হার ৫.৫ শতাংশ থেকে নিচে নামিয়ে ৩.৬ শতাংশ করেছে। আবার, বিশ্বের অন্যতম সেরা আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন সংস্থা মুডিজ তাদের পূর্বাভাসে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হারকে ৫.৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২.৫ শতাংশ করেছে।

প্রত্যেকটি আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন সংস্থাই আগাম জানিয়ে দিচ্ছে ভারতের অর্থনীতির বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী।আর তার ওপর এই মারণ ভাইরাস আরো ক্ষতি করছে অর্থনীতিকে। শুধু ভারতবর্ষ নয় কোভিড-১৯ এর জেরে ব্যাপক মন্দার মধ্যে দিয়ে যেতে চলেছে বিশ্ব অর্থনীতি।

ফিচ-এর মতে, চিনে আঞ্চলিক উৎপাদন সরবরাহ শিল্পে যে প্রাথমিক বাধা ছিল, তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। কারণ এখন তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে স্থানীয় ঐচ্ছিক ব্যয় এবং রফতানি। সংস্থার তরফে এক বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি বছরে বিশ্ব মন্দার ফলে ভারতের বৃদ্ধির হার ৫.১ শতাংশ থেকে এক ধাক্কায় কমে ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

এত কিছুর মধ্যেও একটু আশার আলো দেখাচ্ছে এডিবি। তারা বলেছে, ছোট ছোট অর্থনৈতিক সংস্থাগুলিই এরপর দেশের ভাগ্য বদলাতে পারে। তাদের মূল্যসমূহের সমষ্টির ওপর ভিত্তি করে আগামীদিনের অর্থনীতি আবার দাঁড়াবে।

এডিবি জানিয়েছে, ভারতে কোভিড-১৯ এখনও পুরোপুরিভাবে ছড়াতে পারেনি। ভারত এই ভাইরাস মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।কিন্তু বাকি বড় বড় দেশগুলির ক্রমশ শক্তিক্ষয় হচ্ছে। তাদের মধ্যে করোনার প্রভাব অনেকটাই বেশি পড়েছে। তাই বিশ্ব-অর্থনীতির কিছুটা প্রভাব ভারতের অর্থনীতির ওপর পড়বে। ফলে, অচিরেই কর্পোরেট ও ব্যক্তিগত আয়করে কাটছাঁট হবে। ফলে, আর্থিক সংস্কার হবে এবং বাজারে নগদের জোগান বাড়বে। এডিবি-র আশা, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৬.২ শতাংশতে পৌঁছতে পারে।

RELATED Articles

Leave a Comment