করোনার প্রকোপ বিশ্বজুড়ে বেড়েই চলেছে। আর সেই সংক্রমন রুখতে দেশজুড়ে লকডাউনের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার পর্যন্ত ভারতে সরকারি হিসেবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০০ এর কাছাকাছি। যার মধ্যে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৬৩ জন।
মোদী বলেছেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমরা যেন নিজেদের একা মনে না করি।’ ভারতে এখনও যে গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়ায়নি তার পিছনে রয়েছে লকডাউন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘স্টেজ ২ আর স্টেজ-৩ এর বর্ডার লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশ। এর মধ্যে যদি সেই বর্ডার পাড় হয়ে যায় তবে কোনও মাস্ক-স্যানিটাইজারে আর কাজ হবে না।’
গত সোমবারই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্মসচিব লভ আগরওয়াল বলেছিলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই গোষ্ঠীসংক্রমণ বলা যায় না। আমরা এখনও স্টেজে-২ তেই আছি। স্টেজ-৩ এর সংক্রমনের খবর সঠিক নয়।’
তিনি আরো বলেন , ‘দেশজুড়ে লকডাউন কাজে এসেছে । লকডাউনের জেরে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ থেকে ১০০০ এ পৌঁছতে ১২ দিন সময় লেগেছে। কিন্তু অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে এই একই সময় ৩ থেকে ৫ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।’
অবশ্য এই সংক্রমনের ঘটনাকে আরো ঊর্ধমুখী করেছে সম্প্রতি নিজামুদ্দিনের সমাবেশ। সেখানে থেকে বিপুল পরিমাণ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন সামনের ১২ দিনই হল আসল সময়। এই সময় জরুরী দরকার ছাড়া বাড়ি থেকে না বেরোনোটাই শ্রেয়।
তাঁরা বলছেন,
• স্টেজ-১: বিদেশ থেকে ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে আসার ঘটনাতেই শেষ হয়ে গিয়েছে।
• স্টেজে-২: বিদেশ থেকে আসা কারও সংস্পর্শে এসে মানুষের সংক্রমণ হয়েছে।
• আর স্টেজ-৩: গোষ্ঠী সংক্রমণ, যা হলে ভারতে মৃত্যুমিছিল দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
এই সময় একটাই কাজ আমাদের সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং মেনে চলা। রাজকীয় আয়ুবিজ্ঞান সংস্থানের ডিরেক্টর ব্রিগেডিয়ার ডাঃ রাকেশ কুমার গুপ্তা বলেন, ‘ এখনো সতর্ক না হলে দেশের মানুষের জন্য সমূহ বিপদ আস্তে চলেছে ।’
ফিজিশিয়ান ডাঃ সন্তরাম বর্মা বলেন, ‘লকডাউনের জেরে ৫০ শতাংশ মানুষ হয়ত করোনার থেকে দূরে থাকবেন। কিন্তু সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং না মানলে আগামী এই সংক্রমন কিন্তু রদ করা অসম্ভব। বরং আগামীতে এক বড় বিপর্যয় আমাদের অপেক্ষায় আছে।’





