করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একুশ দিন ব্যাপী লকডাউন চলছে দেশে। প্রতি মুহুর্তেই বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে ৬৩। মৃত ৩ জন। এরই মাঝে লকডাউনের শহরে দুঃস্থ মানুষ থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে কলকাতার শাসকদলের কাউন্সিলাররা। বাড়ি বাড়ি বা আবাসনের ফ্ল্যাটে গিয়ে ত্রান বিলি করছেন তাঁরা। ভবানীপুরে তেমনই এক আবাসনের ফ্ল্যাটে খাবার দিতে গিয়ে ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অসীম বসুর লোকজন দেখেন, ঘরের মধ্যে ভাইএর কঙ্কালসার মৃতদেহ আগলে বসে রয়েছেন তাঁর দিদি।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম শান্তনু দে (৪৩)। দিদির নাম মহাশ্বেতা দে (৫৪)। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, সাতদিন আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যুর আসল কারণ ময়নাতদন্তের পরেই জানা যাবে।
পুলিশসূত্রে আরও জানা গেছে, ওই দুই ভাইবোন তেমন কোনও কাজ করতেন না। কারও সঙ্গে মেলামেশাও করতেন না। বেশ কিছুদিন ধরেই নাকি ওই ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।
অন্যদিকে অসীমবাবু জানান, ‘দলীয় এক কর্মী ওই একই পাঁচতলা আবাসনের একতলায় থাকেন। আবাসনের তিনতলায় থাকা ওই দুই ভাইবোনকে প্রতিদিনই খাবার দিতে যেত দলীয় কর্মীরা। এদিন তারা ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে ডাকতেই দিদি মহাশ্বেতাদেবী বেরিয়ে এলে দলের কর্মীরা তাঁকে বলে, খাবার যে তারা দিচ্ছে, তার একটি ছবি নিতে হবে। এরপর দু’জন ঘরের ভিতরে ঢুকে দেখে, শান্তনুবাবুর দেহ পড়ে রয়েছে। তীব্র দুর্গন্ধ। সারা শরীরে পচন ধরেছে। তা দেখেই ওই দু’জনে ছুটে এসে আমাকে জানায়। আমি সঙ্গে সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে যাই এবং দুর্গন্ধে রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়ি। এরপরই পুলিসকে খবর দিই।’ অসীমবাবু থানায় খবর দিলে পুলিস এসে দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ভবানীপুরের এই ঘটনার সঙ্গে কয়েক বছর আগের রবিনসন স্ট্রিটের ঘটনার মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে অবশ্য দিদির মৃতদেহ আগলে রাখতে দেখা গিয়েছিল পার্থ দে কে। আর এখানে ঠিক উলট্-পুরাণ! ভাইএর মৃতদেহ আগলে ঘরবন্দি ছিলেন দিদি। তবে কী কারণে ওই প্রৌঢ়া এমন করলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে নাগরিকদের ভূমিকা। একজন ঘরের মধ্যে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন, অথচ কেউ তা টের পেল না কেন, উঠছে সেই প্রশ্নও।





