কেরলের মালপ্পুরমে ৬ মাসের গর্ভবতী হাতিকে নৃশংসভাবে হত্যা প্রসঙ্গে মুখ খুললেন দেশের বর্ষীয়ান শিল্পপতি রতন টাটা। এই পাশবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন সুপরিকল্পতভাবে হত্যা হয়েছে এই নিরীহ হাতিকে। তাঁর কথায় এটি ‘মেডিটেটেড মার্ডার’। দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির দাবিতেও সরব হয়েছেন তিনি।
সোমবারই প্রথম প্রকাশ্যে এসেছিল কেরলের এই অমানবিক ঘটনার কথা। খাবারের খোঁজে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা ওই হাতিকে বাজি আর বারুদ। ভর্তি আনারস খেতে দিয়েছিল স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দারা। বাজি ভর্তি আনারস খেতেই সেটি হাতির মুখের ভিতর ফেটে যায়। মুখ আর শুঁড়ে গুরুতর আঘাত পায় সে। তারপর থেকে প্রবল যন্ত্রণা নিয়ে হাতিটি গোটা গ্রামে ছুটে বেড়ায়। যন্ত্রনা থেকে রক্ষা পেতে নদীর জলে মুখ নামিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সে আর তাতেই দমবন্ধ হয়ে মাঝ নদীতে মৃত্যু হয় তার।
এই ঘটনা সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পশু প্রেমীরা। সেই হাতির নির্মম হত্যা নিয়েই মুখ খুলেছেন শিল্পপতি রতন টাটা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বলেন, গর্ভবতী হাতির মৃত্যুর কারণ জানতে পেরে খুবই দুঃখ পেয়েছেন। একদল মানুষ কী করে বাজি ভর্তি আনারস একটি নিরীহ হাতিকে খাওয়াতে পারে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন কোনও মানুষকে পরিকল্পিতভাবে খুনের থেকে নিরীহ পশুকে এইভাবে হত্যা কোনও অংশে কম অপরাধমূলক নয়। অভিযুক্তদের বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ ও পশু প্রেমী হিসেবে পরিচিত মানেকা গান্ধীও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। পাশাপাশি তুলোধনা করেন কেরল সরকারের। তিনি বলেন এই জাতীয় ঘটনার জন্য বিখ্যাত কেরলের মলপ্পুরম জেলা। ওই জেলাকে দেশের সবথেকে হিংসাত্মক জেলা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় বিষ ছড়িয়ে রাখে যার জেরে একসঙ্গে ৩০০-৪০০ পাখির মৃত্যু হয়। মৃত্যু হয় প্রচুর কুকুরেরও। বন্যপ্রানী হত্যা রুখতে করেল সরকার উদাসীন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এখানে তিন দিন অন্তর একটি করে হাতির মৃত্যু হয়।
গতকালই কেরল সরকার ঘটনার তদন্ত হবে বলে ঘোষণা করেছিল। পাশাপাশি জানিয়েছিল, নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।





