‘নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় জমায়েতের সাথে যুক্ত মানুষদের চিকিৎসার কোনো প্রয়োজন নেই’: মন্তব্য করেন রাজ ঠাকরে

সম্প্রতি মার্চ মাসে নিজামুদ্দিন এলাকায় যে ধর্মীয় সমাবেশ হয়েছিল তা নিয়ে উত্তাল সারা দেশ। এবার নিজের বক্তব্য রাখলেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা প্রধান রাজ ঠাকরে।

নিজামুদ্দিনের ঘটনা নিয়ে সংবাদিকদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে রাজ ঠাকরে শনিবার বলেন, তবলিগি জামাত ফেরতা লোকদের চিকিৎসার কোনো প্রশ্নই নেই। বরং এদের প্রকাশ্যে গুলি করা উচিত।

দিল্লির নিজামুদ্দিনে তবলিগি জামাতের যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে যোগ দেন ২ হাজার মানুষ। ওই সম্মেলনে শুধু দেশের নয় এমনকি বিদেশের মানুষও যেমন সৌদি আরব, কাজাকাস্থান, মালয়েশিয়া-সহ একাধিক দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছিলেন। তারপর সম্মেলন শেষে যে যার রাজ্যে ফিরে গিয়েছেন।

এই বিষয়টি ঘটনাটা ঘটার অনেকদিন পর সামনে এসেছিল। যেদিন কাশ্মীরের এক ব্যক্তির করোনোয় আক্রান্ত হয়ে মারা যান সেদিন তার সংক্রমনের ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে ঘটনাটি সামনে আসে। এরপর একে একে আরো আক্রান্তকারীদের খোঁজ মিলতে থাকে। যার মধ্যে কিছুজন মারাও গেছেন। জানা গেছে তেলঙ্গানা, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ থেকেও অনেকে সেখানে গেছিল। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ যেতে যারা যোগ দিয়েছিলেন তাদের চিহ্নিত করা গিয়েছে এবং আপাতত তাদের রাখা হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এমএনএস প্রধান বলেন, দেশ এখন ভয়ঙ্কর সংকটের মধ্যে গিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ওরা ধর্মটাকেই বড় করে দেখছে। আর এর মধ্যে যদি কোনও ষড়যন্ত্র থাকে তাহলে তবিলিগি জামাতে থাকা লোকজনকে চিহ্নিত করতে হবে। তাদের প্রকাশ্যে চাবকে সেই ভিডিও ছেড়ে দিতে হবে।

রাজ ঠাকরের দাবি, প্রধানমন্ত্রী এনিয়ে কিছু বলা উচিত। দেশে যা খুশি হতে পারে না। দেশে একটা নিয়মকানুন আছে। প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত মহারাষ্ট্র ও কেরলেই। মহারাষ্ট্রে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০। সু্স্থ হয়েছেন ৫০ জন।

এদিকে, নিজামুদ্দিনরে তবলিগি জামাতের বিরুদ্ধে করোনা ছড়ানোর অভিয়োগ নিয়ে পাল্টা বক্তব্যও রয়েছে বিভিন্ন মহল। কোনও কোনও মহল থেকে যুক্তি খাড়া করা হচ্ছে, নিজামুদ্দিনের তবলিঘি জামাতের অনেক আগেই বিদেশে থেকে ফেরানো হয়েছে কয়েক লাখ ভারতীয়কে। তাদের বিমানবন্দরে আটকানো হয়নি এমনকি কড়াকড়িভাবে কোনো টেস্টও হয়নি ।

মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয় , করোনা এদেশে কোনও বিপদের বিষয় নয়। ৩০ জানুয়ারি দেশে প্রথম করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছিল কিন্তু চিন থেকে কোনও শিক্ষা নেয়নি সরকার।

RELATED Articles

Leave a Comment