লকডাউনের জেরে লাদাখেই আটকে পড়েছিলেন। সেটাই হল তাঁর কাল। সোমবার গালওয়ান সংঘর্ষে মারা গেলেন কর্নেল বি সন্তোষ বাবু (৩৭)।
করোনা ভাইরাসের জেরে সেপ্টেম্বরে বাড়ি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ফিরতে পারেননি সেইসময়। এবারে চিরতরে হারিয়ে গেলেন সন্তোষ বাবু। তেলেঙ্গানার সুরিয়াপেটের শেষবারের মত বুধবার যখন তিনি আসলেন, তখন তিনি নিথর। তিনি এখন দেশের শহিদ কর্নেল।
বি সন্তোষের স্ত্রী সন্তোষী, মেয়ে অভিগ্না (৯) এবং ছেলে অনিরুদ্ধ (৪) দিল্লিতে থাকেন। দিনকয়েক আগেই বাড়িতে ফোন করেছিলেন সন্তোষ। তাঁর বাবা জানালেন, আমার সঙ্গে মাত্র দু’দিন আগেই কথা বলল। জানাল, “করোনাভাইরাস মহামারি একেবার কমে গেলে আগামী সেপ্টেম্বরে ওকে (লাদাখ থেকে) ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। কিন্তু ও আমাদের ছেড়ে সারাজীবনের জন্য চলে গেল।” তাঁর বাবার থেকেই তিনি সেনায় যোগ দেওয়ার স্বপ্ন পেয়েছিলেন। সূর্যপেটে প্রাথমিক স্কুলে পড়ার পর অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়নগরম জেলার কোরকুকোন্ডায় সৈনিক স্কুলে ভরতি হয়েছিলেন। যে স্কুলটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনে রয়েছে। সেখানে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে পুণেতে ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে যোগ দিয়েছিলেন বি সন্তোষ বাবু। তারপর দেরাদুনে ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি থেকে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৪ সালে ১৬ বিহার রেজিমেন্টে কমিশনড হয়েছিলেন। প্রথম পোস্টিং ছিল জম্মুতে। তারপর বিভিন্ন প্রান্তের সীমান্তে মোতায়েন ছিলেন।
সুরিয়া পেটের বাড়িতে বসে সন্তোষের বাবা-মা লাদাখে উপত্যকায় সংঘর্ষের কথা জানতে পারেন। কিন্তু তাঁরা তখনও ভাবেননি যে তাঁদের ছেলের পরিণতি এতটা করুণ হবে। যেহেতু নিহতদের তালিকায় ছেলের নাম দেখেননি প্রথমে তাই তারা ততটা চিন্তিত ছিলেন না। কিন্তু তারপরে বৌমার ফোন আসতেই এক লহমায় বদলে গেল চিত্রটা।
সন্তোষের কাকা জানিয়েছেন, সন্তোষ অনেকদিন ধরে হায়দ্রাবাদে বদলির চেষ্টা করছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে উন্নতির পর অনুমোদন মিলেছিল। কিন্তু বদলির প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই দেশে লকডাউনের ঘোষণা করে কেন্দ্র এবং পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত ওকে লাদাখে ভারত-চীন সীমান্তে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেটাই তাকে এই করুণ পরিণতির দিকে ঠেলে দিল।
যদিও সন্তোষের বাবা জানিয়েছেন তাঁর ছেলে যে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে এইজন্য তিনি গর্বিত। ছেলেকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে গেলেও তাঁর মাও জানালেন তাঁর ছেলে তো দেশ মায়ের জন্য প্রাণ দিয়েছে এটাতো সবথেকে বড় গর্বের কথা।
বুধবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ শহীদ কর্নেলের দেহ হায়দ্রাবাদে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখান থেকে সোজা সুরিয়াপেটে শেষকৃত্যের জন্য দেহ নিয়ে যাওয়া হবে।





