কাল বাংলার সবচেয়ে বড় আসন নন্দীগ্রামে হতে চলেছে নির্বাচন। কালই মুখোমুখি লড়াইয়ে নামবে শুভেন্দু-মমতা। আর তাই নির্বাচনের একদম চরম মুহূর্তে নন্দীগ্রামের পর সিঙুর স্মৃতিও উস্কাতে ভুললেননা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় l
এদিন হুগলিতে দু’টি সভা করলেন তিনি। প্রথমে তিনি গোঘাটে তারপর সেখান থেকে গেলেন সিঙ্গুরে। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী বেচরাম মান্নার বাড়ির কাছে রতনপুরে সভা করলেন তিনি।
আরও পড়ুন- বিজেপি জিতলে ইনিই হবেন বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী! সাফ জানালেন দিলীপ ঘোষ
সেই সভা থেকে ছুঁয়ে গেলেন তৃণমূলের উত্থানের জমি আন্দোলনের সেই আবেগকে। মঞ্চে ডেকে নিলেন তৎকালীন সঙ্গীদের। রীতিমতো নাম ধরে ধরে খোঁজ নিলেন অনেকের। বললেন, ‘এখানকার সকলকেই তো চিনি আমি। নাম ধরে ধরে প্রত্যেককে জানি।’
আরও পড়ুন- দ্বিতীয় দফা ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে বিজেপির অভিযোগে সরানো হল হলদিয়ার এসডিপিওকে
কাঠফাটা রোদ্দুরে সেই সভা থেকে এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে বেনজির সৌজন্য দেখালেন দলনেত্রী। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে যেখানে আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা পড়েছেন মমতা সেখানে সদ্য দলবদল করা মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে কড়া ভাষা প্রয়োগ করতেও দেখা গেল না তাঁকে। বরং মাস্টারমশাইয়ের দলবদল নিয়ে তৃণমূল নেত্রী যে অবাকই হয়েছেন, তা স্পষ্ট তাঁর বক্তব্যেই। বললেন, ‘মাস্টারমশাই কীভাবে দাঁড়ান বিজেপির হয়ে? আমি অনুরোধ করেছিলাম, আপনাকে কোনও উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান করে দেব। সম্মানের সঙ্গে কাজ করবেন।’ মমতার ভাষণের পরতে পরতে ঝরে পড়ল মাস্টারমশাইয়ের উদ্দেশে শ্রদ্ধা। বললেন, ‘আমি আজও রবীন্দ্রনাথবাবুকে সম্মান করি।’ একইসঙ্গে বিজেপিকে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেত্রী বললেন, ‘৯২ বছর বয়সের মাস্টারমশাইকে সেবা না-করে ভোটে দাঁড় করিয়ে দিল বিজেপি।’
এদিনের সভা থেকে সিঙ্গুরের আবেগ ছুঁয়ে গেলেন মমতা। জানালেন, ‘২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিঙ্গুর থেকে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। বেচারামকে বলেছিলাম, অন্য কোনও জায়গা থেকে মাস্টারমশাইকে দাঁড়ানোর জন্য বোঝাতে। কিন্তু উনি বুঝতে চাননি। সিঙ্গুর আমার আন্দোলনের জায়গা। সিঙ্গুর নিয়েও আমার আবেগ আছে।’ যদিও তৃণমূল নেত্রীর দাবি মানতে নারাজ সিঙ্গুরের বিজেপি প্রার্থী ‘মাস্টারমশাই’ রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘উনি দাঁড়াতে চাইলে নিশ্চয়ই দাঁড়াতে পারতেন। বেচারামকে দিয়ে কেনও আলোচনা করানো হল। উনি নিজে কথা বলতে পারতেন আমার সঙ্গে।’ তাঁর কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমাকে জিতিয়েছেন কি না জানি না, সিঙ্গুরের মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন।’
এদিনের সভা থেকে তিনি আরও জানান, ‘সিঙ্গুর আন্দোলনের জন্য সন্তোষী মায়ের ব্রত শুরু করেছিলাম, বলেছিলাম জিতলে সন্তোষী মাতার মন্দির করব। ক্ষমতায় আসার পর সেটা করে দিয়েছি।’ সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামের নির্বাচনের আগের দিন ফের একবার জমি আন্দোলনের আবেগ ছুঁয়ে গেলেন মমতা।





