নানান সময় নানান ইস্যু নিয়ে কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে বিরোধ লেগেই থাকে রাজ্য সরকারের। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বারবার আবাস যোজনা ও ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের টাকা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন আবহে এবার বাংলাকে সম্মানিত করল কেন্দ্র সরকার। বাংলার ১১টি জেলাকে ‘ভূমি সম্মান’ পুরস্কারে সম্মানিত করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। জেলা আধিকারিকরা এই সম্মান গ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে।
বাংলার কোন কোন জেলা এই ভূমি সম্মান?
বাংলার হাওড়া, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া-সহ যে ১১টি জেলায় নানান তথ্যের ১০০ শতাংশ ডিজিটালাইজেশন হয়ে গিয়েছে। সেই ১১টি জেলাকেই সম্মানিত করেন রাষ্ট্রপতি। জমি রেজিস্ট্রেশন, ভূমি কর-সম্পর্কিত মানচিত্র এবং জমির রেকর্ডের কম্পিউটারাইজেশনের কাজ সম্পন্ন করার কাজ চলছে। সেই কাজে এগিয়ে বাংলার এই ১১টি জেলা। উল্লেখ্য, কিছু মাস আগেই বাংলার ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প প্ল্যাটিনাম পুরস্কার পেয়েছে। কেন্দ্রের ইলেকট্রনিক্স ও আইটি দফতর ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ পুরস্কারের ‘পাবলিক প্ল্যাটফর্ম’ বিভাগে বাংলাকে প্ল্যাটিনাম পুরস্কারে ভূষিত করে।
এই প্রকল্প আসলে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া ল্যান্ড রেকর্ডস মর্ডানাইজেশন প্রোগ্রাম’-এর অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রপতি এই বিষয়ে বলেন, “সার্বিক গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য জমির রেকর্ড ডিজিটাইজেশন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কল্যাণমূলক প্রকল্পের রূপায়নে বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে ভূমি দপ্তরের রেকর্ড সেকশনের সযুক্তিকরণ অত্যন্ত জরুরি”।
সূত্রের খবর, আধার নম্বরের মতো এই প্রকল্পে জমিরও ‘ল্যান্ড পার্সেল আইডেনটিফিকেশন নম্বর’ দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকদের মতে, এমনটা করার ফলে জমি সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা এসেছে। জমি সংক্রান্ত দুর্নীতি কমছে। জমি সংক্রান্ত বিবাদের দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় আদালতেরও অনেক সময় বাঁচছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতর।
কেন দেওয়া হয় এই ভূমি সম্মান?
জেলায় জেলায় ভূমি সংক্রান্ত কাজ ডিজিটালাইজেশন করার উদ্যোগ নিয়েছে মোদী সরকার। যে সমস্ত জেলা ভালোভাবে এই কাজ করে, প্রতিবছর তাদের ‘ভূমি সম্মান’ পুরস্কারে সম্মানিত করে কেন্দ্র। এই বছর গোটা দেশের ৭৫টি জেলা এই সম্মান পেয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলারই ১১টি জেলা সেই সম্মান গ্রহণ করেছে।





