পুলিশ নাকি আমাদের রক্ষাকর্তা। কিন্তু সেই রক্ষাকর্তাই যখন ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন নিরাপত্তার জন্য কোথায় ছুটবে মানুষ। এবার এক আদিবাসী তরুণীকে মারধর, নিগ্রহের অভিযোগ উঠল খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই। এই ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। এমন ঘটনায় ক্ষোভ জারি করেছেন এলাকার বাসিন্দারা।
কোথায় ঘটেছে এই ঘটনা?
ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার কোটশিলা থানার বড়রোলা গ্রামে। জানা গিয়েছে, গত রবিবার ওই গ্রামের এক তরুণীর বাড়ি গিয়ে তাঁর উপর অত্যাচার করেন কোটশিলা থানার এক পুলিশ কর্তা। বাড়িতে থাকা চল্লিশ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ।
কী ঘটেছিল ঘটনাটি?
জানা গিয়েছে, গত রবিবার ওই সংশ্লিষ্ট এলাকায় বেআইনি ম’দ বিক্রি করার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। সেই অভিযান চালিয়ে ওই তরুণীর বাড়ি ঢুকে তাঁকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে। ওই তরুণী জানান, “রাত্রি সাড়ে দশটা নাগাদ কোটশিলা থানার এক কর্তা এবং আরও দু’জন বাড়িতে ঢোকেন। ঘরে মদ রয়েছে এই সন্দেহে আমায় মারধর করেছে। এমনকী ঘরের মধ্যে রাখা টাকা নিয়ে নিয়েছে। আমি বিচার চাই”।
অভিযোগপত্রে ওই তরুণী উল্লেখ করেছেন যে তাঁর সঙ্গে শ্লী’ল’তা’হা’নির চেষ্টা করা হয়েছে। তরুণী অভিযোগপত্রে লিখেছেন,”থানার বড়বাবু তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে বলেছেন, “নিচু জাতির মেয়ে, তোরা অনেক বেড়ে গিয়েছিস। এই ভাবে তোদের জব্দ করব। থানায় জানাতে গেলে আবার এসে এই ভাবেই মারব”।
মারধরের জেরে গুরুতর আহত হন ওই তরুণী। তাঁকে পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদ জানান গ্রামের মহিলারা। খবর পেয়ে গতকাল, মঙ্গলবার ওই গ্রামে যান পুরুলিয়ার বিজেপি সংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। নিগৃহীতা মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে কোটশিলা থানার পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান তিনি।
এরপরই ওই ওসিকে ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত চলছে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ঘটনার বিষয়ে জানার পরই আমি আমার অ্যাডিশনাল এসপি (হেডকোয়ার্টার)-কে পাঠাই ব্যাপারটার তদন্ত করার জন্য। প্রাথমিক ভাবে অভিযোগ পেতেই আমরা পুলিশ অফিসারকে ক্লোজ করি। লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে”।





