গত সোমবার তৃণমূল বিধায়ক নরেশ বাউড়ির নেতৃত্বে শতাধিক লোক বিশ্বভারতী প্রাঙ্গণে এসে যেভাবে পাঁচিল ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল তা নিয়ে চলেছে বিস্তর জল ঘোলা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত এই ঐতিহ্য প্রাঙ্গণে তৃণমূলের বর্বরতা মেনে নিতে পারেননি কেউই। ঘটনার পরে বিক্ষোভের সোচ্চার হয়েছে বিজেপি। কলকাতা জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও করেছে বিজেপির যুব মোর্চা। যার নেতৃত্বে ছিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ (Saumitra Khan), বিজেপির অন্যতম শীর্ষ যুব মোর্চা নেতা ও বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ ডঃ অনুপম হাজরা (Anupam Hazra)।
আজ কিছুক্ষণ আগে এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের দ্বারস্থ হলেন ডঃ অনুপম হাজরা এবং সৌমিত্র খাঁ। অন্যান্য বিজেপি প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন এই সাক্ষাৎকারে। বিশ্বভারতীতে ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা।
অনুপম হাজরা স্মারকলিপিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্বভারতীর একজন প্রাক্তন ছাত্র এবং অধ্যাপক হিসাবে, এলাকার প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে গোটা ঘটনায় তিনি অত্যন্ত লজ্জিত এবং ব্যথিত। রাজ্য সরকার নিজস্ব অভিসন্ধিতে গোটা ঘটনার তদন্ত করবে না। তাই এই ঘটনার তদন্ত ভার যেন কোনো নিরপেক্ষ সংস্থাকে দেওয়া হয়। অর্থাৎ বকলমে অনুপম হাজরা গোটা ঘটনার জন্য সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়াও আচমকা বিশ্বভারতীতে কেন ভাঙচুর করা হলো সেই নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “রবিঠাকুরকে নিয়ে লড়াই করতে চাই না।” এছাড়াও গণেশ চতুর্থীর পর থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনাথের ছবির সামনে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হবে বলে জানিয়েছেন সৌমিত্র খাঁ। তিনি প্রার্থনা করবেন যাতে সেই সোনার বাংলা কে ফিরিয়ে দেন।
গোটা ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বভারতীতে। ইতিমধ্যেই বিশ্বভারতী আচার্য অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই ব্যাপারে অভিযোগ জানিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তারপরে আজ রাজ্যপালের সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতারা সাক্ষাতের পর স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে বিজেপি এই ব্যাপারে সহজেই তৃণমূলকে ছাড় দেবে না।





