সম্প্রতিই রামনগরে সমবায় সমিতির নির্বাচনের মুখ পুড়েছে বিজেপির। হার হয়েছে গেরুয়া শিবিরের। সেই ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই এবার ফের ধাক্কা পদ্ম শিবিরে। বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান-সহ একাধিক এবার বিজেপি ছেড়ে গেলেন তৃণমূলে তাই আবার শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুকে। এই ঘটনায় বেশ অস্বস্তি গেরুয়া শিবিরে।
ঘটনাটি ঘটেছে মহিষাদলে বেতকুণ্ডু গ্রাম পঞ্চায়েতে। এই গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র তমলুকের অন্তর্গত। এই এলাকা আবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীরও খাসতালুক নামে পরিচিত। এই এলাকাতেও ধরল বিজেপিতে ভাঙন।
গত রবিবার সন্ধ্যেয় কুমুদিনী ডাকুয়া মঞ্চে মহিষাদল ব্লক তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেতকুণ্ডু গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ঝর্নারানি দাস ও পঞ্চায়েতের আরও দুই সদস্য। এদিন এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মন্ত্রী মানস ভূঁইয়া ও স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক তিলক চক্রবর্তীও। তাদের উপস্থিতিতেই এদিন তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন পঞ্চায়েত প্রধান ও বাকি দুই সদস্য। বিজেপির বেশ কিছু কর্মীও এদিন যোগ দেন তৃণমূলে।
প্রসঙ্গত, এই গ্রাম পঞ্চায়েত ২৬টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৪টি সনে জিতেছিল বিজেপি। আর বাকি ১২টি আসনের মধ্যে ১০টি আসনে জেতে তৃণমূল ও বাকি দুই আসনের একটিতে জয়ী হয়েছিল আইএসএফ ও অন্যটিতে জিতেছিলেন নির্দল প্রার্থী। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এই গ্রামে পঞ্চায়েত বোর্ড দখল করে বিজেপি। তবে এবার পঞ্চায়েত প্রধান ও আরও তিন পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় আসন সংখ্যা বাড়ল তৃণমূলের। এবার এই পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন করার লক্ষ্যে তৃণমূল।
এদিনের এই দলবদল নিয়ে মহিষাদলে তৃণমূল বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা এখন বুঝতে পেরেছেন উন্নয়নে তৃণমূল কংগ্রেসের বিকল্প কোনও দল নেই। তাই তাঁরা বিজেপি ছাড়তে শুরু করেছেন”।
আরও পড়ুনঃ ‘মার্কসবাস-লেনিনবাদের ব্যাখ্যা দিয়ে মহিলার উপর অত্যাচার চাপা দেওয়া যাবে না’, তন্ময় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে কটাক্ষ মদনের
বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলের যোগ দিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান ও তিন পঞ্চায়েত সদস্য জানান, বিজেপিতে থেকে পঞ্চায়েত চালানো কঠিন হয়ে পড়ছিল। উন্নয়ন হচ্ছিল না বিজেপিতে থেকে। তাদের কথায়, উন্নয়নের স্বার্থেই তারা দলবদল করেছেন। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের আবার দাবী, মিথ্যে খুনের মামলায় মুক্তি দেওয়ার শর্ত দিয়ে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানকে দিয়ে দলবদল করিয়েছে জোর করে।





