কঠিন করোনা পরিস্থিতিতেও বিশাল জনসমাগম করে ভোট প্রচার দিলীপ-মিঠুনের! দায়ের হল এফআইআর

করোনার এইরকম ভয়াবহতার মধ্যেও ভাবলেশহীন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা। মানুষের সেবা করতে গিয়ে মানুষকে কতটা বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন তাঁরা তা বোধহয় এখন‌ও বুঝে উঠতে পারেননি। বা ক্ষমতা হাসিলের লোভে তা বুঝতে চাননি।

আর তাইতো বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, সমাবেশ, মিছিল। ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে মহামারী। তবুও চোখ খোলেনি। দেশে এই রকম হাহাকারের মধ্যেও অতিমারীর নিয়ম ভাঙছেন রাজনৈতিক নেতারা। এমনই অভিযোগ উঠেছে বিজেপির প্রদেশ অধ্যক্ষ দিলীপ ঘোষ এবং তারকা প্রচারক মিঠুন চক্রবর্তী’র বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন-করোনার ধাক্কায় ধুঁকছে বাংলা! ব্যাপকহারে আক্রান্ত কর্মীরা, কমছে কলকাতা মেট্রো’র সংখ্যা

করোনা ভয়াবহ আকার নিতে শুরু করলে নির্বাচন কমিশন জানায়, যে কোন‌ও জনসভায় পাঁচশোর বেশি মানুষ জমায়েত করা যাবে না। কিন্তু বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও মিঠুন চক্রবর্তী’র দু’টি পৃথক সভায় পাঁচশোর অনেক বেশি মানুষ ভিড় করেন বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

বিশেষ করে অভিনেতা থেকে নেতা হওয়া মিঠুন চক্রবর্তীকে দেখতে মালদহের বৈষ্ণবনগরে মানুষের ঢল নামে। ফলে দুই নেতার বিরুদ্ধেই উঠেছে বিধিভঙ্গের অভিযোগ।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ দিনাজপুরের কুসমণ্ডিতে এদিন সভা ছিল দিলীপ ঘোষের। কমিশনে অভিযোগ জানিয়ে তৃণমূল বলেছে, সেখানে পাঁচশোর বেশি লোক নিয়ে সভা হয়েছে। যা কোভিড পর্বে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের শামিল। তাই দিলীপের সব প্রচার বন্ধের দাবি জানিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। উল্লেখ্য, গতকাল কুমারগঞ্জেও একইভাবে নির্বাচনী বিধি ভাঙেন দিলীপ ঘোষ। তৃণমূলের দাবি, এতে বহু লোকের জীবন বিপন্ন করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

আরও পড়ুন- কোথায় থামবে এই মৃত্যু মিছিল! ২৪ ঘণ্টায়, করোনায় মৃত্যু ২,৬২৪ জনের

আজ অর্থাৎ শনিবার একই অভিযোগ উঠল মিঠুন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধেও। মালদহের বৈষ্ণবনগরে পাঁচশোর বেশি মানুষ নিয়ে সভা করে বিধি ভেঙেছেন তিনি। মিঠুনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে তৃণমূল। তাদের দাবি, বিজেপির তারকা প্রচারকের সমস্ত সভার অনুমতি প্রত্যাহার করা হোক। বিজেপির বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করুন কমিশন। সৌগত রায় অভিযোগ জানিয়েছেন, কমিশন বিজেপির কথায় চলে। তাই শকুনের দল এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে। গোটা দেশ প্রাণপণ করোনা মোকাবিলার চেষ্টা করছে। আর বিজেপি রাজনীতি করছে। সবই হচ্ছে মোদি-শাহের প্রশ্রয়ে।

এই দুই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও কোন‌ও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ইতিমধ্যেই মিঠুনের সভার আয়োজকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের তরফে অলোক রাজোরিয়া জানান, আয়োজকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে ওই কেন্দ্রের‌ই রিটার্নিং অফিসার l

RELATED Articles