মাঝে আর একটা দিন। এরপরই রাজ্যের ৬ কেন্দ্রে রয়েছে উপনির্বাচন। তবে নির্বাচনের আগেই এবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলল ঘাসফুল শিবির। শুধু তাই নয়, শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে তাঁকে সেন্সর করার আবেদন জানিয়ে স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজা ও জয়প্রকাশ মজুমদার। কমিশনে একটি স্মারকলিপি জমা দেন তারা। এরপর সাংবাদিক বৈঠক করে কুণাল বলেন, “আজ আমরা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে কিছু বক্তব্য জানিয়েছি, স্মারকলিপি দিয়েছি। যে বিষয়টি নিয়ে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, তা হল শনিবার ৯ নভেম্বর নির্বাচনী প্রচারে ভয়ঙ্কর আপত্তিজনক বক্তব্য রেখেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তারা হেট স্পিচ দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধি মানা হচ্ছে না। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও প্ররোচনামূলক বক্তব্য রেখেছেন”।
তৃণমূল নেতার কথায়, “বাংলাদেশ আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র।এর অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কথা বলা যায় না। সেখানে কী হয়েছে, তার নির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই। কিন্তু উনি (শুভেন্দু অধিকারী) বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে অত্যন্ত উত্তেজনামূলক বক্তব্য রেখে তিনি সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ, মেরুকরণ ও প্রতিহিংসার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। বিজেপির এই ভেদাভেদের সংস্কৃতি চলতে দেওয়া যায় না। উপনির্বাচনে হার নিশ্চিত বুঝে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে”।
তিনি আরও বলেন, “ওই ভিডিওতে শুভেন্দু বলছেন এই ছবি দেখেছেন, ওই টাইলস ভাঙা হচ্ছে। আমরা স্মারকলিপির সঙ্গে ওই বক্তব্য পেনড্রাইভে করে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি। এটা শুধু নির্বাচন বলে নয়, সমাজকে ধর্মের নামে হিংসা তৈরির চেষ্টা, ধর্মীয় ভাবাবেগকে হিংসায় পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছে ওই ৪০ মিনিটের ভাষণে। এটা সমাজের পক্ষে, আইন-শৃঙ্খলার পক্ষে ক্ষতিকারক। আমাদের বক্তব্য কেন্দ্রের নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে সেন্সর করার দাবী জানিয়েছি”।
আরও পড়ুনঃ ‘তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়ে রোজই বিজেপি বিধায়করা অভিষেকের সঙ্গে দেখা করছেন’, দাবী ফিরহাদের, বড় ভাঙন আসন্ন বিজেপিতে?
কিন্তু প্রচার পর্বের শেষ মুহূর্তে এমন অভিযোগ কেন তোলা হল শুভেন্দুর বিরুদ্ধে। সেই বিষয়ে কুণাল বলেন, “আমাদের প্রচার আজ শেষ হচ্ছে। কিন্তু এই ভাষণের প্রভাব নির্বাচন বা উপ-নির্বাচনে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর প্রভাব আরও পড়বে। সম্ভাব্য যাবতীয় আইনি পদক্ষেপ করতে পারেন। তার আগে অবিলম্বে সেন্সর করতে হবে। নির্বাচন কমিশনরে কড়া বার্তা দিতে হবে হেট স্পিচ নিয়ে। এটা বিজেপির সংস্কৃতি। জানে ৬টার ৬টা আসনেই হারতে চলেছে। তাই মরিয়া হয়ে এইসব করছে। এই স্পিচ সংবাদমাধ্যম, সামাজির মাধ্যমে সরিয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা গোটা বিষয়টি বলেছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। অপকর্ম করে শাসক দলের ওপর চাপানোর ষড়যন্ত্র চলছে । ঘৃণার ভাষণ তারই প্রস্তুতি”।





