করোনা আতঙ্কের মধ্যেও রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত। এবার সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে বঙ্গ বিজেপি। শনিবার থেকে নতুন ক্যাম্পেন চালু করেছে গেরুয়া শিবির। ‘#ভয়পেয়েছেমমতা’ এই ক্যাম্পেনে প্রধানত মুখ্যমন্ত্রীকেই টার্গেট করা হয়েছে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকদের সামনে আসছেন না মমতা বন্দোপাধ্যায়। করেননি কোনও প্রেস কনফারেন্সও। রাজ্য সরকারের এই নীরবতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে রাজ্য বিজেপি। দুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রীর এই নীরবতা প্রসঙ্গেই মুখ খুলেছিলেন রাজ্য বিজেপির কান্ডারী দিলীপ ঘোষ। তাঁদের দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পেয়েছেন। তাই চুপ করে রয়েছেন। করোনা মোকাবিলায় পুরোপুরি ব্যর্থ রাজ্য সরকার, নিজের ভুল বুঝতে পেরেই সংবাদমাধ্যমের সামনে আসছেন না মমতা বলে ওই ক্যাম্পেনে দাবি করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে ও ট্যুইটারে একযোগে আক্রমণ করা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। #BhoyPeyechheMamata লিখে চলছে জোরদার প্রচার।
রাজ্য বিজেপির দাবি কেন্দ্রীয় দল রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি দেখে যাওয়ার পরেই এখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারগুণ হয়ে গিয়েছে। বেড়ে গিয়েছে আক্রান্তের সংখ্যাও। নিজের আসল রূপ সামনে চলে আসার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পেয়ে গিয়েছেন বলে মত গেরুয়া শিবিরের।
উল্লেখ্য ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে কোনও সাংবাদিক সম্মেলনেই কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই মর্মে অভিযোগ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাম্পেন শুরু করেছে রাজ্য বিজেপি।
মার্চ মাস থেকে করোনা মোকাবিলায় রাজ্যগুলির মধ্যে প্রথম সারিতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল নেত্রীকে। করোনা রোধে প্রথমদিকে তাঁর কার্যকলাপ যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু এপ্রিলের পর থেকে আর কোনও সাংবাদিক সম্মেলন করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজ্যের হয়ে প্রশাসনিক সবরকম তথ্য সরবরাহ করছেন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব।
এদিকে, নতুন করে কেন্দ্র রাজ্য সংঘাত শুরু হয়েছে পরিয়ায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানো নিয়ে। কেন্দ্রের দাবি শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন বাংলায় চালানোর কোনও প্রস্তাব রেলের কাছে এসে পৌঁছয়নি৷ রাজ্য বলছে, ইতিমধ্যেই আটটি শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের বন্দোবস্ত করেছে মমতা সরকার৷ কেন্দ্র-রাজ্য এই দড়ি টানাটানিতে আপাতত ঝুলে রয়েছে হাজার হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ৷





