Murshidabad : বেতবোনায় এক রাতে ১১৩ টি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হল! আদালতের রিপোর্টে তৃণমূল নেতার নাম, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ!

ঘরছাড়া, আতঙ্কগ্রস্ত, নিরাপত্তাহীন—এই তিনটি শব্দই যেন মুর্শিদাবাদের কিছু এলাকার বর্তমান চিত্র তুলে ধরছে। সন্ধ্যা নামতেই কাঁটা ঘাঁটায় ভরা পথ, কোথা থেকে কারা এসে হামলা চালাবে, সেই ভয় তাড়া করে বেড়াচ্ছে স্থানীয়দের। বেতবোনা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক এখনও কাটেনি বলেই জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। কেউ নিজের বাড়ির বাইরে না বেরোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কেউ আবার দিনের আলো পড়তেই অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন।

বাড়ি ভেঙেছে, দোকান লুট হয়েছে, ছাদ গুড়িয়ে পড়েছে। তবু প্রাণ বাঁচানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এমন বহু পরিবার, যাঁরা এখন আশ্রয় নিয়েছেন মালদহ বা পাশের অন্যান্য জেলায়। গা ঢাকা দিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়ি কিংবা আশ্রয় শিবিরে। একজন বৃদ্ধার কণ্ঠে হতাশা—“সারাজীবন এই পাড়ায় কাটালাম, আজ নিজেদের জিনিসপত্র ছেড়ে পালাতে হচ্ছে!” এই ঘটনার পিছনে যে রাজনৈতিক রং জুড়ে রয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই আবেগঘন দৃশ্যগুলোর পরেই সামনে এল আদালতের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট। সূত্র বলছে, রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শুধুমাত্র বেতবোনাতেই ১১৩টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার চেয়েও বড় বিস্ফোরণ—এই হিংসার মূল নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর মেহবুব আলম, এমনটাই দাবি করেছে কমিটি। রিপোর্ট অনুযায়ী, পুলিশ সমস্ত ঘটনার সাক্ষী থাকলেও কার্যত নিষ্ক্রিয় থেকেছে। এখানেই উঠছে প্রশ্ন—তা হলে প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল?

তদন্ত রিপোর্টে আরও উল্লেখযোগ্য যে, হিংসার সময় মালদহে যাঁরা আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁদের জোর করে ফেরত আনা হয়েছে নিজ এলাকায়। তৃণমূল পরিচালিত স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র অসহযোগিতার অভিযোগ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার পেছনে পরোক্ষভাবে ভূমিকা ছিল সামসেরগঞ্জের বিধায়ক আমিরুল ইসলামেরও—রিপোর্টে তাঁর নাম সরাসরি না থাকলেও “তদারকির” ইঙ্গিত রয়েছে একাধিকবার।

আরও পড়ুনঃ Ssc : ২৫ হাজারের বেশি চাকরি বাতিলের পর ফের ধাক্কা! এসএসসি দুর্নীতিতে নতুন নির্দেশ শীর্ষ আদালতের !

যদিও এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেহবুব আলম। তাঁর সাফাই, “গন্ডগোলের সময় আমি নাদাবপাড়াতে লুকিয়ে ছিলাম, সেই অবস্থায় কীভাবে বেতবোনায় হামলা চালাতে পারি?” তাঁর এই দাবি ঘিরেও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। রিপোর্টে বিধায়ক আমিরুল ইসলামের সরাসরি নাম না থাকলেও ‘এক ব্যক্তি’ হিসেবে তাঁর উল্লেখ, রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে আদালতের রিপোর্ট, অন্যদিকে শাসক দলের অস্বীকার—ফলে মুর্শিদাবাদের হিংসা এখন কেবল প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles