রাজ্যপালের জরুরি তলবকে অস্বীকার ডিজিপি, স্বরাষ্ট্রসচিবের! টুইটারে ক্ষোভপ্রকাশ জগদীপ ধনকড়ের

গতকাল রাতে টিটাগড় থানার কাছেই শুট-আউট করা হয় একদা তৃণমূল ত্যাগী বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লাকে (Manish Shukla)। যিনি প্রধানত বিজেপির দাপুটে নেতা অর্জুন সিং (Arjun Singh)-এর ডান হাত বলেই পরিচিত ছিলেন।

গতকাল‌ই প্রিয় সঙ্গীকে হারিয়ে অর্জুন অভিযোগ করেছিলেন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তৃণমূল ও পুলিশ উভয়‌ই যুক্ত। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

আর এবার পশ্চিমবাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন রাজ্যপালের জরুরি তলব পেয়েও সোমবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন না ডিজিপি (DGP), স্বরাষ্ট্রসচিব (Home secretary) কেউই। আর এই খুনের ঘটনা ঘিরে ফের সংঘাত বাড়ল নবান্ন (Nabanna) রাজভবনের (Rajbhaban)।

https://twitter.com/jdhankhar1/status/1312973825512939520

ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankhar) টুইটারে ক্ষোভপ্রকাশের পর এবার সরাসরি কথা বলতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। গতকাল রাতেই রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকড় টুইট করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে জরুরি ভিত্তিতে তলব করেছিলেন। তিনি জানান যে সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে যেন‌ও তাঁরা রাজভবনে যান, তাঁর সঙ্গে আলোচনার জন্য। সেই টুইটের পর নানা স্তরে জল্পনা শুরু হয়েছিল যে রাজ্যপালের ডাকে কতটা সাড়া দেবে বঙ্গ প্রশাসন। অপেক্ষা ছিল সকাল দশটা বাজা’র। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে আশানুরূপ কাজ‌ই করলো নবান্ন। রাজ্যপালের তলবকে অস্বীকার করলেন রাজ্যের দুই প্রশাসনিক প্রধান। রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র অথবা স্বরাস্ট্রসচিব এইচ কে দ্বিবেদী – কেউই রাজভবনমুখী হলেন না। নির্দিষ্ট সময়ে পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাঁদের রাজভবনে না দেখে ফের ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ধনকড়। আরও একটি টুইট করেন তিনি। ফলে রাজ্যপাল-রাজ্য প্রশাসনের দ্বন্দ্ব আরও খানিকটা বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।

এর আগেও বেশ কয়েকবার পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করে তিনি রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্রর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। টুইট যুদ্ধ, পত্র বোমা কোন‌ও কিছুতেই কাজ হয়নি। কোনওবারই ডিজিপির দিক থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে তিনি যথেষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ডিজিপির বিরুদ্ধে শাসকদলের হয়ে কাজ করার মতো গুরুতর অভিযোগও আনেন। তার পালটা প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীও। তিনি পালটা প্রশ্ন করেন, রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ পদাধিকারীকে কেন এত অপমান? তারপরও অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড় থেকে ধনকড় বিজেপি কাউন্সিলর খুনের ঘটনায় ফের ডেকে পাঠান ডিজি, স্বরাষ্ট্রসচিবকে। আর ফের রাজ্যপালের তলবকে অবহেলা করতে দেখা গেল নবান্ন’র তরফে।

RELATED Articles

Leave a Comment