করোনার থাবায় মানসিক এবং শারীরিকভাবে মানুষ বিপর্যস্ত। তার মধ্যে লকডাউনের কারণে নিত্যদিনের সামগ্রীতে চলছে সংকট। আর এই সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রস্তাব পাঠালেন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান ও বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী ৷ এর সাথে সাথে তাঁরা কিছু পরামর্শও দিয়েছেন ৷
শুধু খাদ্য সামগ্রীর ক্ষেত্রেই নয় চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহের ক্ষেত্রেও সমস্যা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। চিকিৎসক-নার্স বা সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরিকাঠামো পাচ্ছেন না ।
এরই মাঝে কোনও সংক্রমণ বোঝার আগেই হাওড়া এবং NRS হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থার বেহাল চিত্রটা সামনে এনেছে। অতীতের মতো এক্ষেত্রেও তথ্য চেপে রাখার ভুল করলে ভবিষ্যতে সমূহ বিপদ আস্তে চলেছে। তাই অবিলম্বে এই বিষয়ে সতর্ক হতে হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের দুই বিরোধী দলনেতা ।
BPL, APL নির্বিশেষে প্রত্যেক পরিবারের কাছে এখনও এক মাসের রেশন-সহ খাদ্যের প্যাকেট পৌঁছায় নি। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে ঘোষণা করে দিয়েছেন তার পরেও কেন এই দেরি? গরিব মানুষ সংকটে পড়ে অসহায়ের মতো বিচলিত হচ্ছে কিন্তু সুরাহা পাচ্ছেন না ।
করোনায় বেঁচে থাকলেও খিদের জ্বালায় প্রাণ আস্টাগতএই আশঙ্কার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রস্তাব দিলেন তাঁরা এবং বিষয়টি নিয়ে ভাবনা চিন্তার আবেদন করেছেন।
ত্রাণ সামগ্রী বিলি করার নামে অত্যন্ত নিম্নমানের যে দলবাজি চলছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা ।মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাদ্য বা অত্যাবশ্যকীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়ার কাজে রাজ্যজুড়ে অজস্র স্বেচ্ছাসেবক সংস্থাও যুক্ত রয়েছেন । তবে প্রচারের জন্য নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতায় ।
কিন্তু কোথাও কোথাও শাসক দলের নেতাকর্মীরা দলবদ্ধভাবে ত্রাণের নামে দলীয় পতাকা, প্রতীক, ক্যামেরা, ইত্যাদি-সহ যে প্রচার এবং আস্ফালন করছেন, তা একপ্রকার অসভ্যতার নিদর্শন হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।আবার পুলিশ অনেক ক্ষেত্রেই শাসক দলের সঙ্গে থাকছে । বাংলার গর্ব অথবা দলীয় প্রচারের মঞ্চ হিসেবে এই সংকটময় সময়কে বেছে নেওয়া ঠিক নয় বলেও জানান তারা ।
এই সংকটকালে সরকার দায়বদ্ধতার পরিচয় দিক এবং প্রচার ব্যতীত মানুষের জন্য কিছু করুক সেটাই কাম্য বলে জানান আব্দুল মান্নান।
কোরোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে এই অবিরত যুদ্ধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ICMR-র পরামর্শ অনুযায়ী সরকার তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক। এই পরিস্হিতিতে আমরা সবাই তার পাশে তার সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে আছি বলে জানান সুজন চক্রবর্তী ।





