কর্মবিরতি, প্রতিবাদ মিছিল, অবস্থানের পর জুনিয়র চিকিৎসকরা আমরণ অনশনে। পেরিয়ে গিয়েছে ১০০ ঘণ্টার বেশি সময়। তাও এখনও নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল তারা। নিজেদের ১০ দফা দাবীতে অনড় ছাত্ররা। অন্যদিকে, লালবাজারেও চলছে প্রতিবাদ। সব মিলিয়ে সপ্তমীতে যেন আরও বেশি প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল শহর।
আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে ১০ দফা দাবী নিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে তাদের এই অনশন। ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়েছে কিন্তু তাদের গলা দিয়ে এক টুকরো খাবার নামেনি। যদিও সিনিয়র চিকিৎসকরা জুনিয়রদের অনুরোধ করেছেন অনশন তুলে নেওয়ার জন্য। তাদের কথায়, দাবী ছিনিয়ে আনতে হবে। কিন্তু জীবন বাজি রেখে নয়। প্রশাসনকেও আরও উদার হওয়ার কড়া বার্তা দেন তারা।
গতকাল, বুধবার রাতে জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। স্বাস্থ্য ভবনে চলে তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক। বৈঠক শেষে রীতিমতো কাঁদতে কাঁদতে বেরন তারা। জানান, বৈঠক সদর্থক হয়নি। তারা জানিয়ে দেন, তারা অনশনের পথ থেকে সরে আসবেন না। ফলে জারি তাদের অনশন।
অন্যদিকে আবার গতকাল, বুধবার দুর্গাষষ্ঠীর দিন আর জি করের নির্যাতিতার প্রতীকী মূর্তি নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার কিছু মণ্ডপ পরিদর্শন করেন ও লিফলেট বিলি করেন। এদিন দক্ষিণ কলকাতার ত্রিধারা সম্মিলনীতে জুনিয়র চিকিৎসকদের হাতে ওই প্রতীকী মূর্তি দেখে কিছু মানুষ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দেন। পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান তারা। এরপরই পুলিশ ৯ জনকে আটক করে লালবাজারে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ধর্মতলার অনশন স্থল থেকে লালবাজার অভিমুখে মিছিল শুরু করেন জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ। মিছিল আটকাতে আগেভাগেই বেন্টিং স্ট্রিটে ব্যারিকেড করে দেয় পুলিশ। লালবাজারের সামনের রাস্তাও ব্যারিকেড দেওয়া হয়। সেখানেই রাতভর অবস্থান বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।
ভোরের দিকে যে যে পথ দিয়ে লালবাজারে যাওয়া যায়, সেই সব পথে ব্যারিকেড করে দিয়েছে পুলিশ। তবে সেই ব্যারিকেডের উল্টোদিকে বসেই অবস্থান জারি জুনিয়র চিকিৎসকদের। তাদের দাবী, গ্রেফতার হওয়া ৯ জনকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে তাদের এই অবস্থান বিক্ষোভ চলবে। অর্থাৎ সপ্তমীর দিন ভোর থেকেই শহরে প্রতিবাদের ঝাঁঝ আরও তীব্র হল।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে আন্দোলনরত চিকিৎসক কিঞ্জল নন্দ বলেন, “আমরা পুলিশকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ওঁদেরকে আটক করার কারণ কী? পুলিশ বলছে, ওরা তো চিকিৎসক নন, তাহলে এভাবে পুজো মণ্ডপে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা তৈরি করবেন কেন? আসলে পুলিশ ভুলে গেছে, এটা এখন আর ডাক্তারদের আন্দোলন নয়, সাধারণ মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে”।





