জলদিবসে জলসঙ্কটের অন্য ছবি ধরা পড়ল চা-বাগানে।২২শে মার্চই নতুন করে আরও একবার চা-বাগানের জলের সমস্যা সামনে এল।
কিছুদিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে মাল বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বুলু চিক বরাইক দাবি করে বলেছিলেন, ‘চা-বাগানগুলিতে পানীয়জল, রাস্তা, পেনশন-সহ অন্যান্য সমস্যা মেটানো হয়েছে।’
তবে বিধায়কের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব অবস্থার অমিল রয়েছে তা বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্বয়ং তৃণমূল বিধায়ক যে চা-বাগানের বাসিন্দা, সেই চা-বাগানেই পানীয়জলের সমস্যা এখনও মেটেনি।এখনও ভরসা বলতে চা-বাগানের জলের ট্যাঙ্ক ও পাহাড়ি ঝোরার জল। এ নিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধও ওই চা-বাগানের রানিখোলা, চাইবাসা শ্রমিক মহল্লার মানুষ।
আরও পড়ুন- কলকাতার এই কেন্দ্র থেকেই কী প্রার্থী হচ্ছেন মিঠুন চক্রবর্তী?
কি বলছেন বিধায়ক? ভোটের মুখে তাঁর আশ্বাস, পানীয়জলের জন্য প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। অর্থও বরাদ্দ হয়েছে। ভোটের জন্য আটকে আছে। ভোটের পরে কাজ হবে। বিধায়ক বলেন, এই এলাকার অনেক চা-বাগানেই পানীয়জল প্রকল্পের কাজ হয়েছে। মানুষ বিশুদ্ধ জল পাচ্ছেন। এই এলাকার জন্য প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেছে। কাজ শুরুর মুখে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষিত হয়ে যায়। সেই জন্য শেষ করা সম্ভব হয়নি। ভোটের পরে কাজ হবে। তখন পানীয়জলের সমস্যা থাকবে না।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ডুয়ার্সের মাল ব্লকে রয়েছে রাঙামাটি চা-বাগান। এখানে টানা ১০ বছরের বিধায়ক বুলু চিক বরাইক এই চা-বাগানের সুন্দরী লাইন শ্রমিক বস্তির বাসিন্দা। এই চা-বাগানে রয়েছে চাইবাসা, রানিখোলা, নয়া কামান-সহ কয়েকটি শ্রমিক মহল্লাও। প্রায় ৯ হাজার মানুষের বাস এই চা-বাগানে। পাথুরে লাল মাটি হওয়ার জন্য এই এলাকায় কুয়ো খোঁড়া প্রায় দুঃসাধ্য। খনন সম্ভব হলেও শুখা মরসুমে মেলে না জলও। সেই সাবেক কাল থেকে এই চা-বাগানের মানুষের ভরসা চা-বাগানের সরবরাহ করা জলট্যাঙ্ক ও ঝোরা।
এই আসনে বুলুচিকের প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রার্থী মহেশ বাগেকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, রাঙামাটিতে জলের সঙ্কট দীর্ঘদিনের। আমি এখানে জিতে এলে সবার আগে জলসঙ্কট মেটাব।
চা-বাগানের চাইবাসা ও রানিখোলা শ্রমিক মহল্লায় গেলে দেখা যাবে মহিলারা পাশের রানিখোলা ঝোরার জলে গৃহস্থালির কাজকর্ম করছেন। পানীয়জলের জন্য রয়েছে রয়েছে চা-বাগানের জলট্যাঙ্ক। সেখানে জল সংগ্রহ করতে দিতে হয় লাইন। চা-বাগানের মহিলারা জানান, আমাদের এমএলএ এখানে থাকেন অথচ আমাদের এই শ্রমিক মহল্লায় দীর্ঘ দিন ধরে পানীয়জলের সমস্যা। বহুবার বলা হয়েছে। সমস্যা মেটেনি। আজও আমাদের ঝোরার জলেই স্নান, কাপড় কাচা, বাসন মাজার কাজ সারতে হয়। তবে এবার ভোট দেওয়ার আগে আমাদের ভাবতে হবে।





