বর্ধমানের শ্যামলাল এলাকার বাসিন্দা তিনি। এক সময় মান্না দে থেকে শুরু করে আরতি মুখোপাধ্যায়, লোপামুদ্রা মিত্রের মতো নানান কিংবদন্তি গায়কীদের সঙ্গে মঞ্চ মাতিয়েছেন তিনি। তাঁর সুরে মেটে উঠতেন দর্শকমহল। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে সংসারের ঘানি টানতে সেই প্রতিভাবান শিল্পীই আজ চা বিক্রেতা।
চা বিক্রিতেই এখন মন দিয়েছেন পূজা ভৌমিক। নানান স্বাদের চা বানান তিনি। তাঁর বানানো মালাই চা, ফ্লেবার চা খেয়ে তৃপ্তি পান ক্রেতারা। তিনিও ক্রেতাদের চা খাইয়ে খুশি। কিন্তু নিজের প্রতিভার কথা কখনও কাউকে জানতে দেন নি পূজাদেবী। পরিস্থিতি আজ তাঁকে অনেক বদলে দিয়েছে।
বর্ধমানের নার্স কোয়ার্টার মোড়ে স্বামীর সঙ্গে চায়ের দোকানেই দেখা যায় সেই পূজা ভৌমিককে। তাঁকে দেখে কেউ ভাবতে পারবেন না যে দশ বছর আগেও তাঁর এক আলাদা পরিচয় ছিল। পূজাদেবী জানান, “পুরনো দিনের কথা মনে করলে খুব কষ্ট হয়, ওই দিনগুলি আর ফিরে পাব না। তবে এখনও সুযোগ পেলে অনুষ্ঠান করব। বাড়িতে নিয়মিত চর্চা রয়েছে”।
২০১১ সালে বর্ধমানের কাঞ্চন উৎসবে শেষ অনুষ্ঠান করেছেন পূজাদেবী। তাঁর স্বামীই তাঁকে নানান অনুষ্ঠানে নিয়ে যেতেন। কিন্তু স্বামীর পা ভাঙার পর বদলে যায় তাঁর জীবন। এরপর থেকে পূজাদেবীর স্বামী আর তাঁকে কোনও অনুষ্ঠানে নিয়ে যেতে পারতেন না। কোনওরকমে চায়ের দোকান চালাতেন। পরিস্থিতি সামলাতে অগত্যা তাই পূজাদেবীকেও বসতে হল চায়ের দোকানেই। স্টেজে উঠে গান গাওয়ার তাঁর স্বপ্ন সেখানেই ইতি।
পূজা ভৌমিক বলেন, “এখন যে ধরনের অনুষ্ঠান হচ্ছে, সেগুলি ঠিক আমাদের সময়কার অনুষ্ঠানগুলির মতো নয়। এখনকার অনুষ্ঠানের ধারা আলাদা। এগুলি ঠিক আমাদের উপযুক্ত নয়। আর তার থেকেও বড় কথা আমার স্বামী আর পারছেন না, তাই ওকে সঙ্গ দিতে ব্যবসায় হাত লাগাচ্ছি”। তবে আজও অতীতের স্মৃতি ভুলতে পারেন নি পূজাদেবী। এখনও সেই স্মৃতি হাতড়ে বেড়ান তিনি।





