গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি বদল নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গতকাল, সোমবার বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে। দায়িত্ব পাওয়ার পর আজ সকালেই বালুরঘাট থেকে কলকাতা আসেন সুকান্ত মজুমদার।
এদিন তাঁকে বিজেপির সদর দফতরে স্বাগত জানানো হয়। বিজেপির হেস্টিংসের কার্যালয়ে সুকান্ত মজুমদারকে তাঁর নতুন পদের জন্য সংবর্ধনা জানানো হয়। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর বালুরঘাটের সাংসদের কাছে বাংলাকে ভাগ করে পৃথক উত্তরবঙ্গ রাজ্য গঠন নিয়ে প্রশ্ন উঠে আসে।
কারণ কিছুদিন আগেই উত্তরবঙ্গের এক বিজেপি সাংসদ জন বারলা উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দাবী তোলেন। যদিও বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই দাবীর বিরোধিতা করেন। এই প্রসঙ্গে বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতির বক্তব্য, “পশ্চিমবঙ্গকে আমি একসঙ্গে দেখতে চাই। উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গের কোনও ভেদাভেদ নেই। আলাদা করে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ বলে কিছু হয় না”।
সদ্যই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। আর তারপরই এই বড় রদবদল করা হল বিজেপিতে। তবে বাবুল সুপ্রিয়র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিজেপি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। তবে কেন তৃণমূলে যোগ দিলেন বাবুল সুপ্রিয়, তা জানি না। তবে ওটা সম্পূর্ণই ওনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। দিলীপদা অত্যন্ত অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তি, উনি কিন্তু দলের সঙ্গেই আছেন। রাজ্য বিজেপির অন্যতম সফলতম নেতা হলেন দিলীপ দা। দলের দিলীপ ঘোষ এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গাইডেন্স নিয়ে আমি সামনের দিকে এগিয়ে যাব”।
তিনি এদিন এও বলেন, “বিজেপির কর্মীরাই দলের মূল শক্তি। তাই কোন নেতা দল ছাড়লে বিজেপির কোনও ক্ষতি হবে না”। এদিন শাসকদলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানাতে ছাড়েন নি সুকান্ত। তিনি বলেন, “মানুষের জীবন নিয়ে খেলে তৃণমূল। তবে এই রাজ্য থেকে তৃণমূলকে উৎখাতের জন্য আমাদের লড়াইও শুরু হয়ে গিয়েছে। তালিবানের দিকে এই রাজ্যকে নিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। যে কোন ভাবে আমরা তা বন্ধ করবই”।
শুধু তাই-ই নয়, এদিন তৃণমূলের ‘খেলা হবে’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “তৃণমূল ২০২৬-এর আগেই পড়ে যাবে। এখন তৃণমূল বলছে খেলা হবে। কিন্তু খেলা এক পক্ষে হয় না। দু’পক্ষেই খেলা হয়। সময় এলেই খেলা হবে”। তৃণমূলকে বাগে আনতে বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি যে বেশ আত্মবিশ্বাসী, তা তাঁর মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট।





