তিনবছর ধরে বেতনহীন জীবিকা সেবকরা, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত গুলিতে 2009-10 সালে রাজ্য সরকার আদেশ নামা জারি করে কৃষি বিজ্ঞান সহ উচ্চমাধ্যমিক পাশ যোগ্যতায় BDO সাহেবদের দ্বারা মেরিট লিস্ট ওয়াইজ জীবিকা সেবকদের নিযুক্ত করেন. ২০১0 সালের 31 সে মার্চ থেকে নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। 4000 থেকে বেড়ে 7500 সামান্য এই ভাতাটুকু তারা পেতেন তারপরে 2017 মে মাস থেকে বন্ধ হয়ে যায় এই সামান্য ভাতাও। সমস্ত আর্থিক অনটন তথা পরিবারের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্নের সংস্থান করতে না পারার যন্ত্রণা সহ্য করেও মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি ভরসা রেখে তারা কাজ করে চলেছেন.এই নিয়ে রাজ্য সরকারকে বহুবার জানিয়েও কোনরকম সুরাহা হয়নি বলে বলছেন এই জীবিকা সেবকরা।

তিনবছর ধরে বেতনহীন জীবিকা সেবকরা, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ

2010 সালের পর রাজ্যে পঞ্চায়েত এলাকায় জীবিকা সেবক নামের পদে লোক নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। যদিও এক্ষেত্রে পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে এক আদেশনামা রয়েছে সে ক্ষেত্রে উল্লেখ আছে যে যেখানে জীবিকা সেবকে রা নিযুক্ত আছেন সেখানে MGNREGS প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত গ্রাম রোজগার সহায়ক আর নিযুক্ত করা যাবে না এবং এই জীবিকা সেবকেরা অতিরিক্ত গ্রাম রোজগার সহায়ক(ADITIONAL GRS ) এর দায়িত্ব ভার বহন করবেন. কিন্তু মজার বিষয় হল এক্ষেত্রে জীবিকা সেবকেরা কোন রিমিউনারেশন বা ভাতা পাবেন না. সম্প্রতি জীবিকা সেবক সংগঠন থেকে জীবিকা সেবক দের এই কাজে নিযুক্ত করে যাতে বেতনের ব্যবস্থা করা হয় এই মর্মে একটি আবেদন পাঠানো হয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তরে. রাজ্য সরকারের প্রতিটি দপ্তরের কর্মচারীরা মাস গেলে বেতন পেলেও এই জীবিকা সেবকেরা তিন বছর হয়ে গেল মাসের শেষে খালি হাতে বাড়ি ফেরেন. রাজ্যের বর্তমান এই কঠিন পরিস্থিতিতেও রাজ্য সরকার তাদেরকে মাসিক বেতন টুকুও দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনবছর ধরে বেতনহীন জীবিকা সেবকরা, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ

জীবিকা সেবকদের কাজ হল মূলত পঞ্চায়েত এলাকায় মানুষদের কৃষি ও পশুপালন, উদ্যানবিদ্যা বিষয়ে সাহায্য করা এবং পরামর্শ দেওয়া। MGNREGS, CENCUS, ELECTION, BAY, NSAP, COVID এর সময় ROSTER DUTY প্রকৃতি কাজও করে থাকেন.এমনকি এখনও করোনা পরিস্থিতিতে কাজ করে যাচ্ছেন জীবিকা সেবকরা। বর্তমানে রাজ্যের 13 টি জেলায় প্রায় 932 জন জীবিকা সেবক আছেন। দীর্ঘ তিন বছর হলো তারা কোন রকম বেতন পাচ্ছেন না। তাই এই বিষয়ে তারা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। ঝাড়গ্রাম জেলার জীবিকা সেবক দুষ্মন্ত বারিক নিজের জীবন যন্ত্রণা প্রকাশ করেছেন এইভাবে যে তার বর্তমান কঠিন পরিস্থিতির কথা তার তিন বছরের কন্যা হয় তো বোঝেনা যদিও এ বিষয়ে তার কোনো অভিযোগও নেই কিন্তু তিনি ব্যথা পান যখন দেখেন তার পাশের বাড়ির এক পিতা তার কন্যার জন্য পোশাক ও প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার এনে দিচ্ছেন কিন্তু তিনি পারছেন না, এক্ষেত্রে তার প্রশ্ন তিনি কি এজন্য নিজে দায়ী, না তার ভুল হয়েছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার এর নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশনামা অনুযায়ী জীবিকা সেবক পদে নিযুক্ত হওয়া. জীবন যন্ত্রণায় পীড়িত এরকম অনেক জীবিকা সেবক রয়েছেন যাদের বর্তমান অবস্থা সত্যিই মর্মান্তিক, অবিলম্বে রাজ্য সরকারের এদের পাশে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে হয়.এই বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে এই জীবিকা সেবকদের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে সুপারভাইজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কিন্তু সেখানে বিনা মাইনেতে এইভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই কাজ করতে অনিচ্ছুক হলেও ভালো কিছু হবার আশায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি ভরসা রেখে এই জীবিকা সেবকগন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন.তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের দোরে দোরে ঘুরছেন। তারা পঞ্চায়েত মন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী, সবাইকেই নিজেদের অবস্থার কথা জানিয়েছেন। পঞ্চায়েত মন্ত্রী মাননীয় সুব্রত মুখোপাধ্যায় মহাশয় জানিয়েছেন জীবিকা সেবক দের সমস্যা সমাধানে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ না হলে কিছু করা যাবে না. যদিও জীবিকা সেবকরা জানিয়েছেন কালীঘাটে নিজ বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী ওনাদের পঞ্চায়েত সহায়ক পদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছিলেন গত বছর নভেম্বর মাসে. সমস্যা সমাধানের জন্য জীবিকা সেবকেরা BDO, DM, জেলা সভাধিপতি থেকে স্থানীয় নেতার পর্যন্ত সকলের কাছে ছুটে গেলেও কোনো ফল পাননি.এমনকি দিদিকে বলো কর্মসূচিতেও নিজেদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেছেন কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি।

তিনবছর ধরে বেতনহীন জীবিকা সেবকরা, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ

এই প্রকল্পটির আগে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে ছিল কিন্তু পরবর্তীকালে এই প্রকল্পটি রাজ্য সরকারকে দেয় কেন্দ্র। গ্রামোন্নয়নের খাতে রাজ্য সরকার কেন্দ্র থেকে যে টাকা পায় সেখানে থেকেই এই জীবিকা সেবকদের ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্প যে রাজ্য সরকার বন্ধ করতে পারবে না তাও জানানো হয়েছিল কেন্দ্র থেকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন ঘোষণা করেছিলেন যে এই জীবিকা সেবকদের পঞ্চায়েত সহায়ক হিসেবে নিয়োগ করা হবে কিন্তু সে গুড়ে বালি। জানা যায় এমতাবস্তায় জীবিকা সেবকেরা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নিকট স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেছিলেন। প্রকল্প বন্ধ না হলেও জীবিকা সেবকেরা এই অভাব-অনটন সহ্য করে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি ভরসা রেখে অন্যান্য কর্মচারীদের মতো অফিসে গিয়ে কাজ করলেও দীর্ঘদিন ধরে টাকা পাচ্ছেন না আর এর জেরেই তারা এবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বড়সড় প্রতিরোধে নামবে বলে জানা যাচ্ছে।

RELATED Articles

Leave a Comment