বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা, বিজেপি কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ পুলিশের, ৮ জনকে গ্রেফতার, ফের উত্তপ্ত ইন্দাস

ঘোষণা হয়ে গিয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণের। শুরু হয়েছে মনোনয়ন পেশ পর্ব। আর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শুরুর দিন থেকেই রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে নানান অভিযোগ উঠে আসছে। এর আগে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রথমদিন অশান্তির খবর মিলেছিল বাঁকুড়ার ইন্দাস থেকে। এবার ফের একবার উত্তপ্ত হল সেই এলাকা।

মনোনয়নের প্রথম দিন বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ইন্দাসে। এর প্রতিবাদে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। আজ, বুধবার ফের সেই একই অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ায় ইন্দাসে। বিজেপই প্রার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের বাধা দিয়েছে আর অকারণে গ্রেফতার করেছে। এর জেরে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় বিজেপি কর্মী ও পুলিশ।

সূত্রের খবর, আজ, বুধবার সকালে বিজেপি প্রার্থী ও কর্মীরা দুটি গাড়ি নিয়ে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় ইন্দাসের বাঁধের পাড় এলাকায় পুলিশ তাদের গাড়ি আটকায়। গাড়িতে বোমা রয়েছে, এই অভিযোগে মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয় বলে অভিযোগ।

বেলা গড়ালে বিডিও অফিসের সামনে ফের ঝামেলায় জড়ায় পুলিশ ও বিজেপি কর্মীরা। বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়নে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দু’পক্ষের অশান্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। তবে লাঠিচার্জের বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ।

ইন্দাসের বিজেপি বিধায়ক নির্মল ধাড়া অভিযোগ করেন, তৃণমূলকে ওয়াকওভার দিতেই পুলিশ বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়া থেকে আটকাচ্ছে। এসডিপিও-র নেতৃত্বে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। পুলিশের এই কাজের অত্যন্ত নিন্দা করেছেন বিজেপি বিধায়ক।

অন্যদিকে, পুলিশের পালটা অভিযোগ, সকালে বাঁধের পাড় থেকে যে গাড়ি আটকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাতে বোমা ছিল। মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার গাড়িতে বোমা কেন মজুত ছিল, সেই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। পুলিশের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা অশান্ত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।

শুধু ইন্দাসই নয়, আজ ভাঙড়ও রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। মঙ্গলবারের পর বুধবারও একই ছবি প্রকাশ্যে আসে। খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হন চিত্র সাংবাদিক। বাঁশ-লাঠি দিয়ে মারধর, হাঁসুয়া দিয়ে কোপানোরও চেষ্টা চলে। বুধবার ভাঙড় এক নম্বর ব্লক সওকত মোল্লার এলাকায় আইএসএফ মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন। সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। চলে লাঠালাঠি, ঝরে রক্ত, হয় বোমাবাজি। 

RELATED Articles