বিজেপি ঝড়ে বেসামাল ঘাসফুল! শাসকদল ছাড়ার পথে এই দুই হেভিওয়েট নেতা

লাগাতার দল পরিবর্তন বঙ্গে। অন্য কোন‌ও বিধানসভা নির্বাচন এইহারে দল পরিবর্তন দেখেছে কি না সন্দেহ।

শুভেন্দু অধিকারী দল পরিবর্তনের পর থেকেই অধিকারী পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। শুভেন্দু’র সঙ্গে বিজেপির  পথে পা বাড়িয়েছিলেন সৌমেন্দু! বাকি ছিলেন বাবা শিশির ও ভাই দিব্যেন্দু। এবার সবুজ রং ছেড়ে পুরোটাই গেরুয়া রঙে সাজতে চলেছে অধিকারী পরিবার।

আরও পড়ুন –WB Election 2021: ‘মিঠুন চক্রবর্তী মূলত একজন নকশাল’, অভিনেতার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে সৌগত রায় 

শুভেন্দু বলেছিলেন, রামনবমীর আগেই তাঁর বাড়িতে পদ্ম ফুটবে। সেই থেকেই শুরু হয়েছিল কানাঘুষো। আর এবার সেই জল্পনাতেই শিলমোহর পড়তে চলেছে। শোনা যাচ্ছে, চলতি মাসেই বিজেপিতে যোগ দেবেন দুই তৃণমূল সাংসদ শিশির ও দিব্যেন্দু অধিকারী।

An Images

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাসে তৃণমূলের সব অনুষ্ঠান থেকে দূরত্ব তৈরি করছিলেন শুভেন্দু। ব্যবহার করছিলেন না তৃণমূলের প্রতীক। মুখে কিছু না বললেও আচরণে বুঝিয়ে দিয়েছেন দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তাঁর। যা স্বাভাবিকভাবেই তাঁর দলত্যাগের জল্পনা উসকে দিয়েছিল।

অনেকেই ভেবেছিল ভোটের মুখে নতুন দল তৈরি করতে পারেন শুভেন্দু। তৃণমূলের তরফে শুরু হয় তাঁকে বোঝানোর কাজ। মমতার বিশ্বস্ত সৈনিক তথা নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রথম সারির নেতার সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন সৌগত রায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা।

কিন্তু চিঁড়ে ভেজেনি।  ডিসেম্বরে ঘাসফুল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। শিবির বদলের সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যয়ের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি। এরপর থেকে লাগাতার পুরনো সহকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বারবার বলেছেন, বাংলাকে তুলে দিতে হবে মোদীর হাতে। কেন্দ্র-রাজ্য এক সরকারের আওতায় আনতে হবে। তৃণমূলের তরফে পেয়েছেন বিশ্বাসঘাতক তকমা। কিন্তু কই পরোয়া নেহি ‌‌! চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন বাংলার পাশাপাশি অধিকারী পরিবার ও মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতেও পদ্ম ফোটাবো।

আরও পড়ুন BREAKING: যিশু সেনগুপ্তও কী এবার বিজেপিতে? রুদ্রনীলের ছবিতে বাড়ছে জল্পনা

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, শুভেন্দু’র দল পরিবর্তনের পর‌ই ডানা কাটা শুরু হয় অধিকারী পরিবারের। সৌমেন্দু, শিশির, দিব্যেন্দুর থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় একাধিক পদ। এরপরই বিজেপিতে যান সৌমেন্দু। তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারীকে প্রথমে দীঘা শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়। এরপর জেলা সভাপতি পদ থেকেও সরানো হয় তৃণমূলের এই পুরনো সৈনিককে। যা স্বাভাবিকভাবেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল অধিকারীদের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্কের ফাটল। একের পর এক দায়িত্ব কমার পর দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন শিশির। পরবর্তীতে ছেলে অর্থাৎ শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করা হলে কাউকে ছেড়ে কথা বলবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। ভোটের মুখে তৃণমূলের একটি সভাতেও দেখা যায়নি তাঁকে। নানা অজুহাতে সভা এড়িয়েছেন দিব্যেন্দুও। পরবর্তীতে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি পদ থেকে ইস্তফাও দেন তিনি। যা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছিল শিশির ও দিব্যেন্দুর অবস্থান নিয়ে। ভোট যতই এগিয়ে জল্পনার আগুনে ঘি পড়েছে। এসবের মাঝে শোনা যাচ্ছে, ২০ তারিখের প্রধানমন্ত্রীর সভায় থাকবেন শিশির-দিব্যেন্দু। হাতে তুলে নেবেন গেরুয়া শিবিররে পতাকা। 

RELATED Articles