ছোটবেলা থেকেই সহ্য করতে হয়েছিল কটূক্তি, সমাজকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আজ সাব-ইন্সপেক্টর পদে ট্রান্সজেন্ডার মহিলা মানবী মধু কাশ্যপ

বিহার পুলিশে সাব-ইন্সপেক্টর মানবী মধু কাশ্যপ (Manavi Madhu Kashyap) নামের এক ট্রান্সজেন্ডার মহিলা, তিনি ইতিহাস গড়েছেন। সংগ্রাম ও সমাজের বাধা কাটিয়ে তিনি এই পদ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। মধুর গল্প অনুপ্রাণিত করে যে দৃঢ় সংকল্প এবং কঠোর পরিশ্রম দিয়ে যে কোনও কিছু অর্জন করা যায়। বিহার পুলিশের ইন্সপেক্টর পদের জন্য নির্বাচিত হওয়া তিন ট্রান্সজেন্ডার প্রার্থীর মধ্যে মধুই একমাত্র ট্রান্স মহিলা। 

মধু প্রাথমিক শিক্ষা নেন তার গ্রামের পাঞ্জওয়ারার এসএস সন্পোষিতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। তিনি সিএনডি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং তিলকামাঞ্জি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তার বাবা নরেন্দ্র প্রসাদ সিং মধু ছোটো থাকাকালীন মারা গেছেন, তার মা মালা দেবী। 

বানকা জেলার বাসিন্দা মধু (Manavi Madhu Kashyap) বলেন, শৈশব থেকেই তাকে তার পরিচয় নিয়ে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি অন্য ছেলেদের থেকে আলাদা। সমাজ ও আত্মীয়-স্বজনের কটূক্তি এড়াতে তিনি তার আসল পরিচয় গোপন রাখতেন। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা ছিল তাই তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন মধু। 

মধু (Manavi Madhu Kashyap) সংবাদমাধ্যমকে বলেন, শৈশবেই তিনি তার বাবাকে হারান। পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। আর্থিক পরিস্থিতি ভালো ছিল না তা সত্ত্বেও, তিনি হাল ছাড়েননি। নিজের জেদ ও কঠোর পরিশ্রমে তার গন্তব্য অর্জন করেন। ২০২২ সালে, মধু প্রোহেবিশন বিভাগে কনস্টেবল পদের জন্য পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি লিখিত পরীক্ষায় পাস করলেও শারীরিক পরীক্ষায় ফেল করেন। সেই সময়ে তার অস্ত্রোপচার হয়েছিল এবং ছয় মাস শয্যাশায়ী ছিলেন। ৯ বছর ধরে গ্রামে যেতে পারেননি। তার মা গোপনে পাটনায় আসতেন দেখা করতে। কিন্তু মধু হাল ছাড়েননি, তার প্রস্তুতি অব্যাহত রাখেন।

এবার তিনি পরিদর্শক পদে আবেদন করে সফলতা অর্জন করেন। মধুর সাফল্যে মধুর (Manavi Madhu Kashyap) পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। মধু তার সাফল্যের কৃতিত্ব তার মা এবং তার বন্ধুদের দিয়েছেন, যারা তাকে প্রতিটি পদক্ষেপে সমর্থন করেছিলেন। মধু সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন যে, তিনি তার ইউনিফর্ম পরে তার গ্রামে যাবেন এবং সবাইকে বলবেন যে হিজড়া হতে তার কোন লজ্জা নেই। সে ইউনিফর্মে তার মাকে স্যালুট করতে চায়।মধুর গল্পটি তাদের সকলের জন্য একটি উদাহরণ যারা সামাজিক বৈষম্যের মুখে পরিচয় তৈরি করতে সংগ্রাম করছেন। মধু বলেন, আপনার যদি কিছু করার ইচ্ছা থাকে তবে কোন বাধাই আপনাকে আপনার লক্ষ্য থেকে আটকাতে পারবে না। 

RELATED Articles