খুশির ইস্টারে আমেরিকায় মৃত্যুমিছিল অব্যাহত, মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়াল

বিশ্বকে নিয়ে মৃত্যুর খেলায় মেতেছে করোনা। আর তার সব থেকে প্রিয় দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইষ্টারের দিনের আনন্দকে এই বছর মাটি করে দিল করোনার করাল ছায়া। আমেরিকায় মৃত্যুর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়াল।

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসেব অনুযায়ী গোটা আমেরিকায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লক্ষ ২৭ হাজার ১১১ জন। ইতিমধ্যে মারা গেছেন ২০,০৫৬ জন। এখনও অবধি ১৮৫টি দেশের মধ্যে করোনা আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা।

পশ্চিম ইউরোপের মানুষজন এখন চিনকে দেখে একটু হলেও স্বস্তি পাচ্ছেন। লাগাতার লকডাউনের জেরে আবার ছন্দে ফিরেছে চিন। একসময় যে চীন মৃত্যুমিছিল বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছিল আজ সে আবার আস্তে আস্তে নিজেকে গড়ছে। কিন্তু সারা দেশের মানুষ মনে বল রাখলেও, সম্ভব হচ্ছে না করোনার জেরে মৃত্যমিছিল রোখা। ইতালিতে এখনো অবধি মৃত্যু হয়েছে ১৯ হাজার ৪৬৮ জনের, ফ্রান্সে ১৬ হাজারেরও বেশি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে নোভেল করোনা। প্রেমের দেশ ফ্রান্সে মৃত্যু ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে। যার জেরে ইষ্টারের এই খুশির দিনে মুখ ভার গোটা বিশ্বের।

ইস্টার এবার কাটছে লকডাউনের মধ্যেই। সারা পৃথিবীতে প্রায় ২০০ কোটি খ্রীষ্টান ধর্মাম্বলী মানুষ বাস করেন। এবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় চার্চ সেন্ট পিটার’স ব্যাসিলিকাও তার ভক্তসমাগম দেখতে পেল না। শূন্য চার্চ থেকে ইষ্টার পালন করলেন পোপ। সেদিন চার্চও শ্রোতাহীনভাবে শুধু পোপের বাণী শুনল। সকলে লকডাউনে আবদ্ধ। শত অন্ধকারেও আশার বাণী শোনালেন পোপ। তিনি বলছেন, “আমরা বারবার বলে আসছি সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা হাল ছাড়ব না। আমরা চেষ্টা করে যাব এবং আমরা নিশ্চই পারব।”

এবারের ইষ্টারে নেই কেক, নেই অনুষ্ঠান, নেই জমায়েত। অনলাইনেই চলছে “ড্রাইভ ইন”- এর মাধ্যমে ইষ্টার পালন। তাতে ফিকে হয়ে গেছে সবকিছুই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অনলাইনেই পালন করবেন ইষ্টার। এই শত কষ্টের মাঝেও একটু আশার আলো দিলেন বরিস জনসনের চিকিৎসকরা। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। কিন্তু সারা বিশ্বে মোট করোনা আক্রান্ত ১৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ১ লক্ষেরও বেশি মানুষের।এই শুভ ইস্টারের দিনে সবার একটাই প্রার্থনা, খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হয়ে উঠুক সবকিছুই, করোনার এই করাল ছায়া কেটে আবার আনন্দ ফিরে আসুক।

RELATED Articles

Leave a Comment