গতকাল বন্দীপোরায় বিজেপি নেতা সহ তাঁর পরিবারের দুই সদস্যকে হত্যার পিছনে যে হত্যাকারীরা রয়েছে তাদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ। কাশ্মীরের পুলিশ ইন্সপেক্টর বিজয় কুমার, নিহত বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে ঘটনাস্থলে তদন্তে নেমে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিজেপি নেতা ওয়াসিম ও তার পরিবারের দুই সদস্যের হত্যার পিছনে রয়েছে লস্কর গোষ্ঠীর সন্ত্রাসবাদী।
হত্যাকারী হিসেবে দুজনকে চিহ্নিত করেছেন পুলিশ। একজন বন্দীপোরার পাপচান এলাকার এক জঙ্গি আবিদ হাক্কানী এবং আরেকজন পাকিস্তানি জঙ্গি আক্রমণকারীরা উভয়ই পায়ে হেঁটে এসে স্বল্প দূরত্বে দাঁড়িয়ে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করে। কাশ্মীরের পুলিশ ইন্সপেক্টর জানান, সেই সময় তাদের সাথে তাদের কোনো নিরাপত্তারক্ষী সেখানে উপস্থিত ছিল না। এহেন দায়িত্ব পালনে গাফিলতির জন্য তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। এমনকি তাদের সাসপেন্ড করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। আপাতত তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
এর আগে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ডিজি দিলবাগ সিং একটি সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছিলেন, বিজেপি নেতা হত্যার পিছনে সন্ত্রাসবাদী দল জাইশ-ই-মোহাম্মদের হাত রয়েছে। তারপর পুলিশ ইন্সপেক্টরের তথ্য থেকে উঠে আসছে লস্কর গোষ্ঠীর নাম। গোপন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে যে কাশ্মীরে , ভারতের একতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থানকারী স্থানীয়দের সন্ত্রস্ত করার লক্ষেই লস্কর-ই-তোইবা এবং জয়শ-ই-মোহাম্মদ মিলিতভাবে এ কাজ করেছে।
এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার এমন ঘটল, যখন কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদীরা কোনো রাজনীতিবিদকে হত্যা করেছে। এর আগে ৮ ই জুন, সন্ত্রাসীরা দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার কংগ্রেস সরপঞ্চকে গুলি করে হত্যা করে। তবে এই নৃশংস ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ কাশ্মীরের ওই ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের কুলগাম এনকাউন্টারে গুলি করে হত্যা করা হয়।
জনপ্রতিনিধিদের উপর সাম্প্রতিক হামলা থেকে বোঝা যাচ্ছে সন্ত্রাসীবাদীরা ভারতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ২০২০ সালে, সদ্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩০ জনের বেশি সন্ত্রাসীকে নিকেশ করেছে ভারতীয় নিরপত্তা বাহিনী। অন্যদিকে, পাকিস্তান হিন্টারল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের প্রেরণ করে জম্মু ও কাশ্মীরের শান্তিকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে চলেছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রন রেখা বরাবর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সন্ত্রাসবাদীদের আগ্নেয়াস্ত্র সমেত ভারতে প্রবেশ করিয়ে দিচ্ছে।





