করোনার স্ক্রিনিং টেস্ট করতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশে কিছুদিন আগেই আক্রান্ত হন পুলিশ এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। এই ঘটনা রীতিমত ভীতি সঞ্চার করেছে তাদের মধ্যে। সেই ঘটনায় সরকারি অনেক সম্পত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মোরাদাবাদে স্বাস্থ্য ও পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের দাম চোকাতে না পারলে জড়িতদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।
করোনা সংক্রমন রোধে এখন উঠে পড়ে লেগেছে সরকার ও পুলিশ প্রশাসন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে যুক্ত কর্মীরাও নিজেদের প্রানের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা করে চলেছেন। এরই মাঝে উত্তরপ্রদেশের এইরূপ ঘটনা তাদের মনকেও নাড়া দিয়ে যায়। করোনা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন করার চেষ্টা করতে গিয়েই আক্রান্ত হয়েছিলেন পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, জেলাগুলির ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রধানদের। তাঁর নির্দেশে বলা হয়েছে, করোনা আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, এমন ব্যক্তিদের স্ক্রিনিংয়ের সময় কেউ যদি কোনো সম্পত্তির ক্ষতি করে, তাহলে তার মূল্য অভিযুক্তদের কাছ থেকে উশুল করতে হবে। তারা তা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে সরকার।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (স্বরাষ্ট্র) অওনীশ কুমার অবস্থী বলেছেন, যে কোনও ভাবেই স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশকে নিরাপত্তা দিতে হবে। তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল সিকিউরিটি আইন (এনএসএ)-র আওতায় মামলা দায়ের-এর নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি মহামারি রোগ আইন ও বিপর্যয় মোকাবিলা আইনেও এদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও কঠোর শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন। এনএসএ-তে কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইন-শঙ্খলার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক বিবেচনা করলে চার্জ গঠন ছাড়াও ১২ মাস পর্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে আটকে রাখতে পারে।
মোরাদাবাদের ঘটনায় গত বুধবার ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই হামলার ঘটনাকে অমানবিক অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন।





